• আজ
  • শনিবার,
  • ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
  • |
  • ৮ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
Text_2

চারা সঙ্কটে পাবনায় রোপা আমন আবাদ ব্যাহত

প্রকাশ: ৮ সেপ্টে, ২০১৭ | রিপোর্ট করেছেন নিজস্ব সংবাদদাতা

জমি থেকে পানি নামার পর পাবনা জেলায় রোপা আমন ধান আবাদের জন্য চারা সংকটে ফাপরে পড়েছে জেলার বেশ কিছু কৃষক। গত বন্যা ও অতিবৃষ্টিতে পানির নীচে তলিয়ে থাকা জমি গুলোতে ধান আবাদ করতে পারছেনা তারা। আবাদের সময় এখনো হাতে থাকলেও চারা সঙ্কটে তার খোজে এ হাট ও হাট ঘুরে বেড়াতে হচ্ছে তাদের। হাটে সামান্য কিছু চারা পাওয়া গেলেও আকাশচুম্বী দামে খরিদ করতে পারছেনা জেলার প্রান্তিক ও বর্গাচাষী কৃষক। তবে কৃষি দফতর দাবী করেছে চারার কোন সঙ্কট নেই পাবনায়।

এবার পাবনা জেলার নয়টি উপজেলাতে ৫১ হাজার ৩৮৭ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান আবাদের পরিকল্পনা ছিল কৃষি বিভাগের। অবশ্য এ পর্যন্ত আবাদ বেড়ে ৫১ হাজার ৫১৬ হেক্টরে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। পরিকল্পিত জমিতে আবাদের জন্য কৃষি দফতর জেলার নয়টি উপজেলাতে ২ হাজার ৫৭৯ হেক্টর জমিতে বীজ তলা নির্মানের পরিকল্পনা করে। কিন্তু অতি বর্ষনের ফলে কিছু বীজ তলা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় চারা সঙ্কটের আশংকায় কৃষকেরা নতুন করে বীজ তলা নির্মান করতে থাকে। এতে বীজতলা নির্মানের পরিমান বেড়ে দাঁড়ায় ২ হাজার ৯০৯ হেক্টরে। অতিরিক্ত চারা উৎপাদনের কারনে প্রাথমিক পর্যায়ে চারা সহজলভ্য হওয়ায় কম দামে কৃষকেরা চারা কিনে আবাদ করতে সমর্থ হয়। এ সময় প্রতিবিঘা জমিতে সাত-আটশত টাকার চারা কিনতে হয়েছে কৃষকের। বর্ষা ও বৃষ্টির কারনে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে বীজতলা নষ্ট হওয়ায় পানি নামার সাথে সাথে বিভিন্ন জেলা থেকে পাবনা এসে চারা কিনতে থাকে। চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় চারা দামও বৃদ্ধি পেতে থাকে। ফলে বর্তমানে একবিঘা জমি আবাদ করতে ২২০০ টাকা থেকে ২৫০০ টাকার চারা খরিদ করতে হচ্ছে কৃষকের।

সরেজমিনে পাবনার ঐতিহ্যবাহী টেবুনিয়ার হাটে গিয়ে দেখা যায়, কৃষকেরা চারা খরিদের জন্য ঘুরলেও হাটে সীমিত চারা রয়েছে। যার দাম লাগালের বাইরে। অবশ্য বেশী বয়সী চারা একটু কম দামে পাওয়া গেলেও তার ফলন বিপর্যয়ের আশংকায় কৃষকেরা সেটা খরিদে আগ্রহী নয়। চারা বিক্রেতা আকরাম হোসেন জানান, বর্তমানে আবাদ শেষের দিকে হলেও, পানির নীচে তলিয়ে থাকা জমি জেগে ওঠায় কৃষকেরা ওই জমি আবাদে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। পাবনার উৎপাদিত চারা অন্যান্য জেলায় যাবার কারনে সঙ্কট দেখা দিয়েছে। ফলে চারার দাম বৃদ্ধিতে বিক্রি করতে হচ্ছে।

আটঘড়িয়া উপজেলার কৃষক মোসলেম জানান, তার জমি জলাবদ্ধতা থাকায় আগাম আবাদ করতে পারে নাই। বর্তমানে জমি আবাদযোগ্য হলে চারা সঙ্কটে আবাদ করতে পারছে না। দুর থেকে টেবুনিয় হাটে এসে দাম বেশী হওয়ায় সামান্য চারা খরিদ করে বাড়ী ফিরছে।

পাবনা কৃষি সম্প্রসারন অধিদফতরের উপ পরিচালক বিভূতি ভূষণ সরকার দাবী করেন, জেলাতে কোন চারা সঙ্কট নেই। পাবনা উৎপাদিত চারা দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁসহ বিভিন্ন জেলাতে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, সাঁথিয়া উপজেলাতে প্রচুর চারা রয়েছে। বগুড়া জেলাতেও দেখা দিয়েছে চারা সঙ্কট। কৃষি দফতরের অতিরিক্ত পরিচালক, বগুড়া অঞ্চলের নির্দেশে পাবনা থেকে সেখানেও চারা পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। সম্প্রতি প্রধান মন্ত্রীর বগুড়া সফরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের মাঝে বিনা মূল্যে চারা সরবরাহের নির্দেশে পাবনা থেকে বগুড়াতে চারা পাঠানোর ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এ চারা সংগ্রহে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় খুজে বেড়াচ্ছে কৃষি দফতর।