• আজ
  • মঙ্গলবার,
  • ২১শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং
  • |
  • ৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ


Text_2

আ.লীগের প্রিন্সই, শিমুলের চাওয়াতে আশ্চর্য জামায়াত

প্রকাশ: ৩০ আগ, ২০১৭ | রিপোর্ট করেছেন শামসুল আলম

কোন পদ্ধতিতে হবে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন এমন আলোচনা চলছে দেশের রাজনৈতিক মহলে। নির্বাচনের পদ্ধতি নিশ্চিত না হলেও নির্বাচনের আগাম প্রস্তুতি শুরু করেছে পাবনার ৫টি আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। পাবনার ৫টি আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ও প্রস্তুতি নিয়ে পাবনা বার্তা ২৪ ডটকম’র বিশেষ ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজ শেষ ও পঞ্চম পর্ব। এ পর্বে থাকছে পাবনা-৫ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ও প্রস্তুতির হালচাল।

সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত পাবনা-৫ আসন। পাবনার রাজনীতিতে এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আসন। ভোট ব্যাংকের হিসেবে এই আসনে বিএনপির চেয়ে এগিয়ে আওয়ামী লীগ ও জামায়াত। ৯১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের রফিকুল ইসলাম বকুল ও বিএনপির অ্যাডভোকেট আবুল আহসানকে হারিয়ে সাংসদ নির্বাচিত হন জামায়াতের মাও. আব্দুস সোবহান। ৯৩ সালে আওয়ামী লীগ থেকে বিএনপিতে যোগ দেন রফিকুল ইসলাম বকুল। পরে ৯৬’র নির্বাচনে আ.লীগের এ কে খন্দকার ও জামায়াতের মাও. সোবহানকে পরাজিত করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বকুল। ২০০১ সালে নৌকার ওয়াজি উদ্দিন খানকে হারিয়ে আবার সাংসদ হন জামায়াতের মাও. সোবহান। ২০০৮ সালে মা. সোবহানকে হারিয়ে চমক দেখান আওয়ামী লীগের গোলাম ফারুক খন্দকার প্রিন্স। ২০১৪ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় আবারও এমপি নির্বাচিত হন প্রিন্স।

বকুলের মৃত্যুর পর এ পর্যন্ত প্রায় সকল নির্বাচনেই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীতা হয়েছে জামায়াত আর আওয়ামী লীগের মধ্যে। এ আসন থেকে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কারাবন্দী জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুস সোবহান ৫ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তাই স্বাভাবিক ভাবেই আসনটি সারা দেশের মধ্যে জামায়াতের অন্যতম দূর্গ। ফলে জোটগত হোক আর একক ভাবে হোক; আসনটিতে জামায়াতের প্রার্থী থাকাটা নিশ্চিত। মাও. সোবহান নির্বাচন করতে না পারলে সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য এমন ক্লিন ইমেজের কোনো নেতাকে প্রার্থী করা হবে। গত উপজেলা ও পৌর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতার মাধ্যমে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা ইকবাল হুসাইনের পরিচিতি পেয়েছে অনেক। তাকেও প্রার্থী করার ব্যাপারে দলের মধ্যে আলোচনা চলছে।

তবে জামায়াতের পথে কাটা হতে পারে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী অ্যাড. শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। নিজেকে বিএনপি ও জোটের একমাত্র প্রার্থী ঘোষণা দিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন তিনি। শিমুলের এমন প্রচারণায় আশ্চর্য হয়েছে স্থানীয় জামায়াত। জামায়াত বলছে, এককভাবেও নির্বাচন করে বিএনপি-আওয়ামী লীগকে হারিয়ে জয়ী হওয়ার মতো ভোট ব্যাংক রয়েছে তাদের। তাই জোট থাকাবস্থায় জামায়াতের ঘাঁটি এই আসনে শিমুলের প্রার্থী হতে চাওয়াটা অবাস্তব। জামায়াত ছাড়াও এ আসনে শিমুলের গলার কাটা রয়েছে। শিমুল প্রার্থী হলে তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ পাবনা পৌর মেয়র বিএনপি নেতা কামরুল ইসলাম মিন্টু বিদ্রোহী প্রার্থী হতে পারেন।

এদিকে বর্তমান সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্স এবারও আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে পারেন। তার অনুসারীদের দাবি, পাবনা সদর আসনে নৌকার একমাত্র প্রার্থী প্রিন্স। এতে কোনও সন্দেহ নেই। তবে প্রিন্সকে খালি মাঠে গোল দিতে নারাজ দলের কিছু তরুণ ও প্রবীণ নেতা। প্রিন্সকে উপেক্ষা করে নৌকার মাঝি হতে চেষ্টা করছেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হাসান শাহিন, খ ম হাসান কবির আরিফ, জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মো. নাসিমের ভায়রা সাইদুল হক চুন্নু, উপজেলা চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন, দুদকের সাবেক কমিশনার সাহাবুদ্দিন চুপ্পু, কেন্দ্রীয় শ্রমিক লীগ নেতা ফজলুল হক মন্টু ও জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক কামিল হোসেন।

এ ব্যাপারে বর্তমান সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্স পাবনা বার্তা ২৪ ডটকমকে বলেন, নির্বাচন নিয়ে আমার কোন মন্তব্য নাই। দলীয় সভানেত্রী যাকে প্রার্থী করবেন আমি তার পক্ষেই কাজ করবো। জেলা আওয়ামী লীগে কোন দ্বন্দ্ব নাই, পাবনা আওয়ামী লীগের ঘাঁটি, সারা দেশের ধারাবাহিকতায় পাবনাতেও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে, আশা করি ভোটাররা সেটা মূল্যায়ন করবেন।

এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তোতা পাবনা বার্তা ২৪ ডটকমকে বলেন, জোটগত ভাবে ম্যাডাম (খালেদ জিয়া) কি করবেন আর কি করবেন না সেটা জানি না। তবে আমরা এ আসনে ম্যাডামের বিশেষ সহকারী অ্যাড. শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসকে প্রার্থী হিসেবে চাই। এর বাইরে কোনও কথা নয়।

পাবনা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি হাফেজ মা. ইকবাল হুসাইন পাবনা বার্তা ২৪ ডটকমকে বলেন, জোটগত ভাবে হোক আর এককভাবে হোক আগামী নির্বাচনে পাবনা-৫ ও পাবনা-১ আসনের জামায়াতের প্রার্থীতা নিশ্চিত। সারাদেশের মধ্যে যদি জামায়াত দুইটি আসনও পায় সেটিও হবে পাবনা সদর ও সাঁথিয়া। তবে প্রার্থীর ব্যাপারে দল যাকে মনোনয়ন দিবে তিনিই নির্বাচন করবেন।