• আজ
  • মঙ্গলবার,
  • ২১শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং
  • |
  • ৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ


Text_2

পাবনায় বন্যায় ২ কোটি ৪৭ লাখ টাকার ফসল নষ্ট

প্রকাশ: ২৮ আগ, ২০১৭ | রিপোর্ট করেছেন কাজী বাবলা

পাবনায় এবারের বন্যাসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে ২ হাজার ৮শ’ ৮৭.৫০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২ কোটি ৪৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। এদিকে জেলায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও বর্তমানে বড়াল নদীর পানি বাঘাবাড়ি পয়েন্টে বিপদসীমা অতিক্রম করে ১৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া যমুনা নদীর পানি মথুরা (নগরবাড়ি) পয়েন্টে বর্তমানে বিপদসীমা ১৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অন্যদিকে পদ্মার পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে।

পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ড’র বেড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল হামিদ পাবনা বার্তা ২৪ ডটকমকে জানান, বড়াল নদীর পানি কমলেও এখনও তা বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার ফলে হুড়াসাগর,গুমানী,চিকনায় নদীর পানির স্তর স্বাভাবিক পর্যায়ে আসতে পারছেনা। এ কারণে বন্যা কবলিত চাটমোহর ভাঙ্গুড়া,ফরিদপুর উপজেলায় অনেক বাড়ি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মানুষ পানি বন্দি দশায় রয়েছে। এ ছাড়া ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫৩৪ হেক্টর আয়তনের পাবনা সেচ ও পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের বাঁধে ভারি যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

পাবনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামাড়বাড়ি’র উপ পরিচালক বিভূতি ভূষণ সরকার পাবনা বার্তা ২৪ ডটকমকে জানান, এবারের অতিবৃষ্টি ও বন্যায় এ জেলার বন্যা কবলিত ওই অঞ্চলগুলোতে নিমজ্জিত হয়েছে, রোপা আমন বীজতলা, রোপা আমন, বোনা আমন, মরিচ ও শাক সবজি। সব মিলিয়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ২৩ আগস্ট পর্যন্ত এ জেলায় নিমজ্জিত ফসলের পরিমাণ ২ হাজার ৮শ’৮৭.৫০ হেক্টর। ক্ষতির পরিমাণ অন্তত ২ কোটি,৪৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। বন্যা পরবর্তী রবি মৌসুমে ভূটা,সরিষা ও খেসারী ফসল দ্বারা পুর্নবাসন করে ক্ষয়ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে দেওয়ার জন্য ইতোমধ্যে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জেলা প্রশাসকের কাছে ২২লাখ ১৫ হাজার ৪শ টাকার চাহিদা পত্র দিয়েছে বলে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, জেলার সুজানগর, চাটমোহর, বেড়া, ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর ও পাবনা সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের (কুষ্টিয়া জেলার সীমান্তবর্তী) ৩টি গ্রামের বন্যা কবলিত হাজার হাজার মানুষ এখনও পানি বন্দি অবস্থায় রয়েছেন। এ সব উপজেলার বেশ কিছু এলাকায় ইতোমধ্যে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বন্যার পানিতে এখনো নিমজ্জিত হয়ে আছে চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুরসহ এ জেলার শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আঙিনা, পানিতেও ডুবে আছে এখনো অনেক স্কুলের শহীদ মিনার।

এবারের বন্যা কবলিত এলাকায় এখনও হাজার হাজার পরিবার পানি বন্দি অবস্থায় রয়েছেন। ওই সমস্ত এলাকার বহু কাচাপাকা রাস্তাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। দেখা দিয়েছে গো খাদ্যও সংকট। বন্যা কবলিতদের মধ্যে এখনও নিজ বাড়িতে ফিরতে পারেননি কয়েক হাজার পরিবার। অনেক পরিবারে এখনও খাবার সংকট বিরাজ করছে। এ সমস্ত মানুষের যোগাযোগ বাহন বলতে নৌকায় একমাত্র ভরসা হয়ে দাড়িয়েছে। বর্তমানে নৌকার অভাবে সঠিক সময়ে বাড়ি থেকে স্কুল,কলেজ ও মাদ্রাসায় যেতে পারেন না অনেক শিক্ষার্থী। ভাঙ্গুড়া উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ইউনিয়ন পরিষদ এবং বেড়ার রুপপুর ইউনিয়ন পরিষদ এর প্রবেশ পথে এখনও হাটু পানি থৈ থৈ করছে।