• আজ
  • বৃহস্পতিবার,
  • ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ইং
  • |
  • ১০ই ফাল্গুন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ


    Text_2

    ঈশ্বরদীতে গরু চুরির হিড়িক

    প্রকাশ: ২৬ আগ, ২০১৭ | রিপোর্ট করেছেন নিজস্ব সংবাদদাতা

    কোরবানির ঈদ সামনে রেখে পাবনার ঈশ্বরদীতে ব্যাপক হারে গরু চুরি হচ্ছে। গত দেড় মাসে উপজেলায় প্রায় ৩৫টি গরু চুরি হয়েছে। গরু চুরি বেড়ে যাওয়ায় খামারি ও কৃষকেরা উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। চুরি ঠেকাতে অনেক এলাকায় রাত জেগে খামার ও গোয়ালঘর পাহারা দেওয়া হচ্ছে।

    সম্প্রতি উপজেলা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি ও ইউনিয়ন কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সভায় গরু চুরি বন্ধে আলোচনা করা হয়। পুলিশ তিনটি ইউনিয়নে রাত্রিকালীন টহল জোরদার করেছে।

    খামারিরা জানান, উপজেলার গ্রাম মহল্লায় কিছুদিন ধরে ব্যাপক হারে গরু চুরি হচ্ছে। কোরবানি ঈদ সামনে রেখে চোরেরা প্রায়ই রাতে কোনো না কোনো বাড়িতে হানা দিচ্ছে। চুরির পর নছিমন ও করিমনে করে ওই সব গরু নিয়ে যাচ্ছে চোরেরা।

    উপজেলা সদরের নারিচা গ্রামের শফিকুল ইসলামের ভাষ্য, ১৩ আগস্ট তাঁর বাড়ির গোয়ালের তালা ভেঙে ও লোহার শিকল কেটে চোরেরা চারটি গরু চুরি করে নেয়। চুরি যাওয়া ওই চারটি গরুর দাম আনুমানিক আড়াই লাখ টাকা। তিনি পরের দিন সকালে ঈশ্বরদী থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।

    এর আগে ১১ আগস্ট রাতে উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের পশ্চিম সাহাপুর মহল্লার আসাদ হোসেনের বাড়ি থেকে পাঁচটি গরু চুরি হয়। আসাদ বলেন, ওই পাঁচটি গরুর দাম আনুমানিক সাড়ে ছয় লাখ টাকা। এর আগে ২ আগস্ট একই গ্রামের দরিদ্র কৃষক মজিবর রহমান বাড়ি থেকে আড়াই লাখ টাকা দামের দুটি গরু চুরি হয়।

    একইভাবে ছলিমপুর ইউনিয়নের চরমিরকামারি গ্রামের হুজুর আলীর বাড়ি থেকে দুটি, উকিল উদ্দিন খাঁর বাড়ি থেকে তিনটি, ছলিমপুরের বক্তারপুর গ্রামের ভোলা বিশ্বাসের বাড়ি থেকে পাঁচটি, ফজলুর রহমানের তিনটি, তিলকপুরের হবিভেড়ির খামার থেকে পাঁচটি, পাকশী ইউনিয়নের রূপপুর নলগাড়ি গ্রামের আবু সাঈদ তুফানের গোয়ালঘর থেকে দুটি গরু চুরি হয়েছে।

    ছলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ বাবলু মালিথা জানান, ইউনিয়নের কাঁঠালবাড়িয়া, সিলিমপুর, কদিমপাড়া, খরেরদাইড় গ্রামে গরুচোরের উপদ্রব সবচেয়ে বেশি। চুরি ঠেকাতে ওই এলাকায় পাহারা দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি ছলিমপুরে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সভায় ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জহুরুল হক, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দীন, গোয়েন্দা বিভাগের ঈশ্বরদী অঞ্চলের পরিদর্শক আলমগীর জাহানকে গরুচোরদের উপদ্রব বাড়ার বিষয়টি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষেরা জানান। এ ছাড়া উপজেলা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা কমিটির সভায়ও গরু চুরি নিয়ে আলোচনা হয়।

    ঈশ্বরদী থানার ওসি আজিম উদ্দীন গরুচোরদের উপদ্রব বাড়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, টুকটাক গরু চুরি হচ্ছে। চুরির খবর পাওয়ার পর থেকে ছলিমপুর, সাহাপুর ও লক্ষ্মীকুণ্ডা ইউনিয়নে রাতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। গরু চুরির বিষয়ে কেউ থানায় এজাহার জমা দিলে তা মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হচ্ছে। এর আগে গরু চুরির মামলায় কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। তারপরও বিভিন্ন এলাকা থেকে গরু চুরির কিছু খবর আসছে।