• আজ
  • মঙ্গলবার,
  • ২১শে নভেম্বর, ২০১৭ ইং
  • |
  • ৭ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ


Text_2

ডিলু অপ্রতিদ্বন্দ্বী, হাবিব-সিরাজের দ্বন্দ্বে প্রার্থী চায় জামায়াত

প্রকাশ: ২১ আগ, ২০১৭ | রিপোর্ট করেছেন শামসুল আলম

সারাদেশের ন্যায় পাবনাতেও চলছে একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগাম প্রস্তুতি। নির্বাচনের প্রায় দেড় বছর আগেই নিজেদের প্রত্যাশার কথা জানান দিচ্ছে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। পাবনার ৫টি আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ও প্রস্তুতি নিয়ে পাবনা বার্তা ২৪ ডটকম’র বিশেষ ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজ চতুর্থ পর্ব। এ পর্বে থাকছে পাবনা-৪ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ও প্রস্তুতির হালচাল।

ঈশ্বরদী ও আটঘরিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত পাবনা-৪ সংসদীয় আসন। ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগের হাবিবুর রহমান হাবিব ও জামায়াতের মাও. নাসির উদ্দিনকে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন বিএনপির সিরাজুল ইসলাম সরদার। ১৯৯৬ সালে আসনটি দখল করে আওয়ামী লীগের শামসুর রহমান শরীফ ডিলু। সেবার বিএনপির সিরাজুল ইসলাম সরদার ও জামায়াতের মাও. নাসির উদ্দিনকে পরাজিত করেন তিনি। এর পর একাধারে ২০০১, ০৮ ও ১৪ সালে সাংসদ নির্বাচিত হন তিনি। ২০১৪ সালে অবশ্য বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বীতায় নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ভূমি মন্ত্রণায়ের দায়িত্ব পালন করছেন।

ঈশ্বরদীর রাজনৈতিক মহলে প্রচার আ.লীগের ডিলুর ৪ বার সংসদ সদস্য বা বিএনপির পরাজয়ের জন্য দায়ী বিএনপির বিদ্যমান গ্রুপ রাজনীতি। ৯১ সালে পরাজয়ের পর ৯৬ সালের নির্বাচনে আ.লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে ৯০’র স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের তুখোর ছাত্রনেতা ও ছাত্রলীগের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিব যোগ দেয় বিএনপিতে। হাবিবের যোগদানের পর থেকে হাবিব-সিরাজ দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে যায় বিএনপি। ২০০১ সালে সিরাজ সরদার মনোনয়ন পেলে বিদ্রোহী প্রার্থী হয় হাবিব। সেবার হাবিব-সিরাজের দ্বন্দ্বে গোল দেয় আ.লীগের ডিলু। ২০০৮ সালেও মনোনয়ন পায় সিরাজ। সিরাজ সমর্থকদের দাবি- সেবার হাবিব মাঠে বিদ্রোহী না হলেও ভোটে বিদ্রোহী হয়ে দাঁড়ায় সিরাজের বিরুদ্ধে। তাতেই বাজিমাত ডিলুর।

এ আসন থেকে একাদশ সংসদ নির্বাচনে বর্তমান এমপি ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলুর মনোনয়ন অনেকটাই নিশ্চিত বলে দাবি করছেন তার সমর্থিত নেতাকর্মীরা। তারা বলছে, মনোনয়ন চাওয়া ও জয়ী হওয়ার মতো শক্ত কোনও প্রতিদ্বন্দ্বী নেই তার। তবে নৌকার প্রার্থী হতে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন মন্ত্রীর জামাই ও ঈশ্বরদী পৌর মেয়র আবুল কালাম আজাদ মিন্টু, সাবেক সংসদ সদস্য পাঞ্জাব আলী বিশ্বাস, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম লিটন, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রবিউল আলম বুদু।

অপরদিকে এবার মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি সিরাজুল ইসলাম সরদার। তবে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবের সমর্থকদের দাবি এবার মনোনয়ন পাবেন তিনি। এ ব্যাপারে দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে সবুজ সংকেতও পেয়েছেন বলে তারা দাবি করছেন। এছাড়া ঈশ্বরদী উপজেলা বিএনপি সভাপতি শামসুদ্দিন আহমেদ মালিথা, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সাবেক পৌর মেয়র মকলেছুর রহমান বাবলু, বিএনপি নেতা ও শিল্পপতি আকরাম আলী খান সঞ্জু, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু ও বিএনপি নারী নেত্রী ললিতা গুলশান মিতা মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন।

৯১ ও ৯৬ সালের নির্বাচনে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী করেছিল জামায়াতের মাও. নাসির উদ্দিন। পরবর্তী ২০০১ ও ০৮ সালে জোটকে ছাড় দিয়ে এ আসনে জামায়াতের প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেননি। জামায়াতের দাবি, জয়ী হওয়ার মতো ভোট ব্যাংক থাকতেও জোটের স্বার্থে দুইবার আসনটি ছেড়ে দিয়েছিল বিএনপিকে। কিন্তু বিএনপির ঘরোয়া দ্বন্দ্বে মাসুল গুণতে হয়েছে জামায়াত ও জোটকে। তাই এবার আসনটি ফিরে চায় তারা। সেই লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ে প্রচারণা চালাচ্ছে জামায়াত। মাঠ পর্যায় ভালো পরিচিতি ও জনপ্রিয় থাকায় এখানে জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডলের প্রার্থীতা প্রায় নিশ্চিত করে রেখেছে। সর্বশেষ গত উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান, ভাইস-চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যানের পদে প্রার্থী দিয়েছিল জামায়াত। কেন্দ্র দখল, জাল ভোটসহ নানা অভিযোগের ওই নির্বাচনে বেশ ভালো ফল করেছিল জামায়াত। ৩টি পদেই বিএনপিকে পিছানো ফেলে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েছিল তারা। এছাড়া এ আসনের অপর উপজেলা- আটঘরিয়ায় চেয়ারম্যান পদে জয় পেয়েছিল জামায়াত। এছাড়া উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি হায়দার আলীর নাম শোনা যাচ্ছে।

বর্তমান সংসদ সদস্য ও ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ ডিলু পাবনা বার্তা ২৪ ডটকমকে বলেন, ‘মানুষ এখন উন্নয়নে বিশ্বাসী, আর আওয়ামী লীগ সেই উন্নয়নেরই রাজনীতি করে। আমার নির্বাচনী এলাকায় আমাদের ক্ষমতাকালীন সময়ে যে উন্নয়ন হয়েছে আশা করি ভোটাদের তা মনে আছে। আওয়ামী লীগ একটা অনেক বড় দল, সেক্ষেত্রে মতভেদ থাকতেই পারে, আর তাছাড়া নির্বাচন এলে অনেক যোগ্য নেতা আছেন তারা তো প্রার্থী হতেই চাবেন, এদের মধ্যে দল যাকে যোগ্য বলে মনে করবেন তিনিই মনোনয়ন পাবেন। ঈশ্বরদীতে আওয়ামী লীগে কোন গ্রুপিং নাই। ঈশ্বরদী- আটঘরিয়ার মানুষ শেখ হাসিনার পাশে আছে এবং সব সময় থাকবে।’

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব পাবনা বার্তা ২৪ ডটকমকে বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান যে সিদ্ধান্ত নিবেন বা যাকে মনোনয়ন দিবেন আমি তার পক্ষেই কাজ করবো। তবে আমার প্রত্যাশা দলের প্রতি আমার আনুগত্য ও কর্মকান্ড বিবেচনা করে দল আমাকে মনোনয়ন দিবেন। কারণ, বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে আমি রাজপথে সরব ছিলাম। জেলও খেটেছি। এখনও আমার নামে একাধিক হয়রানী ও মিথ্যা মামলা রয়েছে। দল আমাকে মনোনয়ন দিলে এই আসনে ধানের শীষের জয় নিশ্চিত করতে পারবো। ইতোমধ্যে দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে এবং বেগম খালেদা জিয়া নিজে আমাকে এলাকায় কাজ করতে বলেছেন।’

ঈশ্বরদী উপজেলা জামায়াতের আমির নুরুজ্জামান প্রমাণিক পাবনা বার্তা ২৪ ডটকমকে বলেন, ‘জোট গঠনের পূর্বে সব নির্বাচনেই আমরা এককভাবে নির্বাচন করেছি এবং সেই সকল নির্বাচনে আমরা শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেছি। শুধু জোটের কারণে আমরা ২০০১ ও ০৮ সালে আসনটি ছেড়ে দিয়ে জোটের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছি। কিন্তু তাদের অভ্যান্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে জিততে পারেনি। আগামী নির্বাচনে জোটের পক্ষ থেকে যাকে মনোনয়ন দেয়া হবে তার পক্ষেই জামায়াত ইসলামী কাজ করবে।’

আগামী পর্বে থাকছে পাবনা-৫ (পাবনা সদর) আসন।

 

পাবনা বার্তা ২৪ ডটকমে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ পূর্বানুমতি ছাড়া কপি করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ না করতে অনুরোধ করা গেল। অন্যথায় কপিরাইট আইনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।