• আজ
  • শনিবার,
  • ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
  • |
  • ৮ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
Text_2

আ.লীগ-বিএনপির এক ডজন নেতার দৌঁড়ঝাপ

প্রকাশ: ১৬ আগ, ২০১৭ | রিপোর্ট করেছেন শামসুল আলম

পাবনায় দেড় বছর আগেই বইতে শুরু করেছে একাদশ সংসদ নির্বাচনের হাওয়া। নিজের প্রার্থীতা জানান দিতে ও প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে পাবনার ৫টি আসনের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। পাবনার ৫টি আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ও প্রস্তুতি নিয়ে পাবনা বার্তা ২৪ ডটকম’র বিশেষ ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজ তৃতীয় পর্ব। এ পর্বে থাকছে পাবনা-৩ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ও প্রস্তুতির হালচাল।

চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত পাবনা-৩ আসনের ভোটার সংখ্যা সাড়ে ৪ লাখের অধিক। তাই এই আসনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের সংখ্যাও অনেক। পাবনা ৫টি আসনের মধ্যে এই আসনেই সবচেয়ে বেশি প্রচার প্রচারণা চলছে। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রায় একডজন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা তৃণমুল নেতাকর্মী ও দলীয় সমর্থকদের সাথে পরিচিতি ও কুশল বিনিময়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রচার-প্রচারণার দিক থেকে সব থেকে বেশি এগিয়ে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। ক্ষমতাসীন দলের নেতারা বিভিন্ন এলাকা ও গ্রাম-গঞ্জে নিজের প্রার্থিতার বিষয়ে প্রকাশ করছেন। এছাড়া বেশ কয়েকজন প্রত্যাশী বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবি সম্বলিত নিজের ছবি দিয়ে শুভেচ্ছা ব্যানার, ফেস্টুন টাঙ্গিয়ে দিয়েছেন প্রত্যন্ত গ্রামগঞ্জে ও বিভিন্ন জন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায়।

১৯৯১ সালে বিএনপির বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান সাইফুল আযম আওয়ামী লীগের ওয়াজি উদ্দিন খানকে হারিয়ে এমপি নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা ওয়াজি উদ্দিন খান নৌকা প্রতীক নিয়ে জয়ী হন। সেময় বিএনপির প্রার্থী ছিলেন কে এম আনোয়ারুল ইসলাম। ২০০১ সালে বিএনপির প্রার্থী কে এম আনোয়ারুল ইসলাম জয়ী হয়। সেবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিল মকবুল হোসেন। আগের বার হেরে ২০০৮ সালে জয়ের মুখ দেখে জাতীয় পার্টি থেকে থেকে আওয়ামী লীগে আসা মকবুল হোসেন। সেবার বিএনপির প্রার্থী ছিল সাইফুল আযম। ২০১৪ সালেও জয়ী হয় মকবুল হোসেন। তবে বিএনপি জোটের বর্জন করা ওই নির্বাচনে ভোট নিয়ে প্রতিপক্ষের ছিল নানা অভিযোগ।

বর্তমান সাংসদ মকবুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে দলীয় নেতাকর্মীদের। তৃণমূল নেতাকর্মীদের অভিযোগ তিনি কর্মীদের মূল্যায়ন করেন না। গত পৌরসভা নির্বাচনে ত্যাগী নেতাদের বাদ নিজের ছেলেকে প্রার্থী করেছে। এ আসনের অন্য উপজেলা ও পৌরসভার নির্বাচনেও দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করেছে। এছাড়া নানা কারণে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছেন। ফলে তার বিরোধী ও দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে। একাধিক নেতা মনোনয়নের ব্যাপারে উপর মহল থেকে সবুজ সংকেতও পেয়েছে বলে দাবি করছেন।

এ আসন থেকে নৌকার মাঝি হতে জোড় প্রচার চালাচ্ছেন জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা আব্দুর রহিম পাকন, ফরিদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আলি আশরাফুল কবির ও আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক ইঞ্জি: আব্দুল আলিম। মকবুল মনোনয়ন না পেলে পাকন, আশরাফুল ও আলিমের মধ্যে কেউ একজন প্রার্থী হতে পারেন বলে নেতাকর্মীদের ধারণা। নৌকা টিকিট পেতে তারা কেন্দ্র ও দলের শীর্ষ নেতার কাছে তদবির চালাচ্ছেন। এছাড়া প্রার্থী হতে চান জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল হামিদ মাস্টার, আতিকুর রহমান, চাটমোহর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন সাখো, বিএমএ জেলা সভাপতি ডা. গোলজার হোসেন এবং ফরিদপুর পৌরসভার মেয়র কামরুজ্জামান মাজেদ।

এদিকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা মাঠে দৌড়ঝাপ করলেও বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা প্রতিকূল রাজনৈতিক অবস্থায় হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করছেন। হাইকমান্ড থেকে নির্দেশ থাকলেও ক্ষমতাসীনের হয়রানীতে মাঠে প্রচার চালাতে পারছে না বলে সম্ভাব্য প্রার্থীদের অভিযোগ। তবে বিএনপির তালিকাতেও আছে প্রায় অর্ধ ডজন সম্ভাব্য প্রার্থী। ধানের শীষের প্রার্থী হতে কেন্দ্রে তদবির চালাচ্ছেন এমন নেতাদের মধ্যে রয়েছে সাবেক এমপি কে এম আনোয়ারুল ইসলাম ও বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান সাইফুল আযম। সাইফুল ১৯৯১ এবং আনোয়ারুল ২০০১ সালে বিএনপির সংসদ সদস্য ছিল। এলাকাতে সমান গ্রহণযোগ্যতা থাকায় সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় তারাই সব থেকে এগিয়ে। এছাড়া প্রার্থী হতে চায় রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান বয়েন উদ্দীন মিয়া. চাটমোহর উপজেলা চেয়ারম্যান হাসাদুল ইসলাম হীরা, ফরিদপুর উপজেলা বিএনপি সভাপতি জহুরুল ইসলাম বকুল।

বর্তমান সংসদ সদস্য মকবুল হোসেনের সাথে পাবনা বার্তা ২৪ ডটকমের পক্ষ থেকে বেশ কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে ফরিদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আলি আশরাফুল কবির পাবনা বার্তা ২৪ ডটকমকে বলেন, ‘নানা কারণে বর্তমান সংসদ সদস্য দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছেন। আমি শোডাউনের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না, জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী তৃনমূলের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড প্রচারের জন্য গ্রামে গ্রামে উঠান বৈঠক করছি। মনোনয়ন প্রত্যাশা করি, তবে দল যাকে মনোনয়ন দেবে আমি তার জন্যই কাজ করবো।’

বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী কে এম আনোয়ারুল ইসলাম পাবনা বার্তা ২৪ ডটকমকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের আমলে এলাকায় কোন উন্নয়ন হয়নি, এলাকার মানুষ উন্নয়ন চায়। ভোটের অধিকার চায়। নিরেপক্ষ ভোট হলে এ আসনে এবার বিএনপি প্রার্থী জয়ী হবে। এখানে দলের কোন দ্বন্দ্ব নাই। মনোনয়ন প্রত্যাশার মত অনেক যোগ্য নেতাই আছে। দল তৃনমুলের চাহিদার প্রতি গুরুত্ব দেব বলে আমি মনে করি।’

আগামী পর্বে থাকছে পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসন।

 

পাবনা বার্তা ২৪ ডটকমে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ পূর্বানুমতি ছাড়া কপি করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ না করতে অনুরোধ করা গেল। অন্যথায় কপিরাইট আইনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।