• আজ
  • শনিবার,
  • ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
  • |
  • ৮ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
Text_2

আরজুকে চ্যালেঞ্জ একাধিক নেতার, বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বী আছে দ্বন্দ্ব নেই

প্রকাশ: ১৪ আগ, ২০১৭ | রিপোর্ট করেছেন শামসুল আলম

একাদশ সংসদ নির্বাচন বাকী প্রায় দেড় বছর। এরই মধ্যে পাবনার ৫টি আসনে বইতে শুরু করেছে নির্বাচনী হওয়া। প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। পাবনার ৫টি আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ও প্রস্তুতি নিয়ে পাবনা বার্তা ২৪ ডটকম’র বিশেষ ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজ দ্বিতীয় পর্ব। এ পর্বে থাকছে পাবনা-২ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ও প্রস্তুতির হালচাল।

পাবনার সুজানগর উপজেলা ও বেড়া উপজেলার একাংশ নিয়ে গঠিত এই আসনে ভোটার রয়েছে প্রায় দুই লক্ষ ৩৫ হাজার। ১৯৯১ সালে এই আসনে আ.লীগের আহম্মদ তফিজ উদ্দিনকে হারিয়ে জয় পায় বিএনপির প্রার্থী ওসমান গণি খান। পরের বার ১৯৯৬ সালে মাত্র ১৫শ ভোটের ব্যবধানে নৌকার তফিজ উদ্দিন কাছে পরাজিত হোন ধানের শীষের ওসমান গণি। ২০০১ সালে দুই দলেরই প্রার্থী পরিবর্তন হয়। সেবার আ.লীগের মির্জা আব্দুল জলিলকে প্রায় ১০ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন বিএনপির এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব। ২০০৮ সালে নৌকার নতুন প্রার্থী মুক্তিযুদ্ধের উপ-সর্বাধিনায়ক এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) এ কে খন্দকারের কাছে প্রায় ২৩ হাজার ভোটে হেরে যায় সেলিম রেজা হাবিব। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কর্মকাণ্ড নিয়ে এ কে খন্দকারের উপর ক্ষুব্ধ হয় আওয়ামী লীগ। আর তিনিও রাজনীতি থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন। ফলে ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে আজিজুল হক আরজু বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

এই আসনে আওয়ামী লীগের ধারাবাহিক পরিবর্তনের আশায় এবারও মাঠে নেমেছে একাধিক নেতা। এর মধ্যে পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা রাকসুর সাবেক জিএস ও কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির রানা, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. সাঈদুর রহমান, কৃষক লীগের সাবেক সভাপতি ড. মির্জা আব্দুল জলিল, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আহমেদ ফিরোজ কবীর ও সাবেক সচিব ড. মজিবুর রহমানের নাম শোনা যাচ্ছে। তবে এবারও প্রার্থী হতে চান বর্তমান সাংসদ আজিজুল হক আরজু। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের। কর্মীদের অভিযোগ- তিনি ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করেন না। তার কাছের লোকজন ও আত্মীয়স্বজনের প্রাধান্য দেন। এছাড়াও তিনি এলাকাতে কম থাকেন। সব মিলিয়ে দলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা তার উপর ক্ষুব্ধ।

অপরদিকে আসনটি পুনরুদ্ধার করতে মাঠে নেমেছে বিএনপির একাধিক নেতা। প্রার্থী হতে গণসংযোগ চালাচ্ছেন জেলা বিএনপির সভাপতি মেজর (অবঃ) কে এস মাহমুদ, সাবেক এমপি এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান জাফির তুহিন। তবে মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে হাবিব ও তুহিন। এলাকায় দুই নেতারই গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। এই দুই নেতার মধ্যেই কেউ প্রার্থী হবেন এমনটা ধারণা স্থানীয় নেতাকর্মীদের। তবে জেলার রাজনীতির মতো এ আসনে বিএনপির রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব নেই বললেই চলে। তাই নেতারা বলছে, দল যাকে প্রার্থী করবে, তার পক্ষেই সবাই কাজ করবে।

এ ছাড়া জেলা জাতীয় পার্টি সভাপতি মকবুল হোসেন সন্টু মনোনয়ন চাইতে পারেন। তবে এ আসনে জামায়াতের ভোট ব্যাংক কম থাকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতায় না যেতে পারে দলটি।

বর্তমান সংসদ সদস্য আজিজুল হক আরজু পাবনা বার্তা ২৪ ডটকমকে বলেন, আওয়ামী লীগের মত বড় দলে সামান্য মতবিরোধতো থাকবেই। তবে নেতাকর্মীদের অভিযোগ সঠিক নয়, আমি নির্বাচিত হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক কাজ করেছি। আমি এমপি হিসাবে নয়, একজন সাধারন কর্মী হিসাবে দলের জন্য আজীবন কাজ করে যাব। দল যাকে মনোনয়ন দিবে তার জয়ের লক্ষ্যে সব সময় মাঠে থাকবো।

বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী সাবেক এমপি এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব পাবনা বার্তা ২৪ ডটকমকে বলেন, আওয়ামী লীগের আমলে এলাকায় কোন উন্নয়ন হয়নি। সরকারী অর্থ লুটপাট করে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ভাগ্যের উন্নয়ন হয়েছে। অনির্বাচিত এমপি জনগণের কোন খোঁজ খবর নেন না। এলাকার সাধারন মানুষ পরিবর্তন চায়। আমাদের দাবী সহায়ক সরকারের অধিন নির্বাচন হলে অবশ্যই এখানে বিএনপি প্রার্থী বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয় লাভ করবে। নির্বাচনকে সামনে রেখে অনেকেই মনোনয়ন চাইবে, আমিও প্রত্যাশী, তবে যোগ্যতার ভিত্তিতে দল যাকে মনোনয়ন দেবে আমি তার পক্ষে কাজ করবো আসনটি পুনরুদ্ধারের জন্য।

আগামী পর্বে থাকছে পাবনা-৩ (চাটমোহর-ভাঙ্গুড়া-ফরিদপুর) আসন।

 

পাবনা বার্তা ২৪ ডটকমে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ পূর্বানুমতি ছাড়া কপি করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ না করতে অনুরোধ করা গেল। অন্যথায় কপিরাইট আইনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।