• আজ
  • শনিবার,
  • ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ইং
  • |
  • ৮ই আশ্বিন, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ
Text_2

আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত

প্রকাশ: ১২ আগ, ২০১৭ | রিপোর্ট করেছেন শামসুল আলম

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে পাবনার ৫টি সংসদীয় আসনে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। পাবনার ৫টি আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ও প্রস্তুতি নিয়ে পাবনা বার্তা ২৪ ডটকম’র বিশেষ ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজ প্রথম পর্ব। এ পর্বে থাকছে পাবনা-১ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী ও প্রস্তুতির হালচাল।

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলা এবং বেড়া উপজেলার একাংশ নিয়ে গঠিত পাবনা-১ আসন। আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জোট ও মহাজোটের সম্ভাব্য প্রার্থীদের আনাগনায় এলাকায় বেশ জমে উঠছে। সভা সমাবেশ, গণসংযোগ, পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও মতবিনিময় সভার মাধ্যমে এসব প্রার্থীরা নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন। একাদশ নির্বাচনে এই আসনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতের মনোনয়ন প্রত্যাশী নেতারা এখন নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেতে নেতারা উপর মহলে লবিং এর পাশাপাশি গণসংযোগও চালাচ্ছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

এই আসনে ভোটার সমর্থন হিসেবে বিএনপির চেয়ে এগিয়ে আওয়ামী লীগ ও জামায়াত। ২০১৪ সালের নির্বাচন বাদে সর্বশেষ ৪টি সংসদ নির্বাচনে দল দুটি জয় পায় ২ বার করে। বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের হলেও উপজেলা চেয়াম্যানসহ সাঁথিয়া উপজেলার ৩টি পদই রয়েছে জামায়াতের দখলে। তাই জামায়াতের ভোট ব্যাংক ও দূর্গ হিসেবে এই আসনের আশা ছেড়েই দিয়েছে বিএনপির শীর্ষ নেতারা। তবে হাল ছাড়েনি স্থানীয় নেতারা।

১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগের অধ্যাপক আবু সাইয়িদকে হারিয়ে এমপি নির্বাচিত হন জামায়াতের মাও. মতিউর রহমান নিজামী। ১৯৯৬ সালে জামায়াতের নিজামী ও বিএনপির মেজর (অব:) মঞ্জুর কাদেরকে হারিয়ে এমপি নির্বাচিত হন নৌকার অধ্যাপক আবু সাইয়িদ। ২০০১ সালে আসন পুনরুদ্ধার করে জামায়াত। আবু সাইয়িদকে প্রায় ৪০ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে জয় পায় ৪ দলীয় জোটের প্রার্থী মাও. নিজামী। ২০০৮ সালে সংস্কারপন্থী হিসেবে বহিস্কৃত হোন আবু সাইয়িদ। ফলে নৌকার নতুন মাঝি হয়ে অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু জামায়াতের আমির নিজামীকে ২০ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। ২০১৪ সালের নির্বাচন বয়কট করে জামায়াত-বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট। সেবার নৌকার প্রার্থী শামসুল হক টুকুর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন অধ্যাপক আবু সাইয়িদ। সাইয়িদের করা নানা অনিয়ম কারচুপির অভিযোগের ওই নির্বাচনে ২০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় পায় টুকু।

আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনে এই আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী আওয়ামী লীগ, জামায়াত, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন দলের প্রায় ডজন খানেক নেতা। নৌকার মাঝি বহাল থাকতে দৌড়ঝাপ শুরু করেছে বর্তমান সাংসদ ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু। এছাড়াও আওয়ামী লীগের প্রার্থী হতে চাইছেন সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, সাঁথিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন, রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা সরদার সোহেল মাহমুদ। সাইয়িদ সংস্কারপন্থী আর হেভিওয়েট প্রার্থী না থাকায় টুকু এবারও মনোনয়ন পেতে পারেন বলে দলীয় সূত্র জানায়।

অপর দিকেও জামায়াতের ভোট ব্যাংকের আসনে প্রার্থী হতে চেষ্টা করছেন বিএনপির মেজর (অবঃ) মঞ্জুর কাদের, খাইরুন নাহার মিরু প্রমুখ। আর জামায়াত থেকে মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার নাজিব মোমেনের নাম শোনা যাচ্ছে। এছাড়া জাতীয় পার্টি থেকে জেলা জাতীয় পার্টির নেতা নাসির উদ্দিনও প্রার্থী হতে চান।

বর্তমান সংসদ সদস্য শামসুল হক টুকু পাবনা বার্তা ২৪ ডটকমকে জানান, বর্তমান সরকার উন্নয়নের সরকার। এরই ধারাবাহিকায় আমার নির্বাচনী এলাকায় আমিও ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। পরপর দুই বার বিপুল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত হয়েছি, অতএব আমার নিশ্চয় জনপ্রিয়তা রয়েছে। জননেত্রী নিশ্চয় জনসমর্থনকে মূল্যায়ন করবেন, এটাই আমার বিশ্বাস। এর পরও দল যাকে মনোনয়ন দেবে আমি তার পক্ষে কাজ করবো।

জামায়াতের সাঁথিয়া উপজেলা আমির মোস্তাফিজুর রহমান ফিরোজ পাবনা বার্তা ২৪ ডটকমকে জানান, নিরপেক্ষ সরকার বা সহায়ক সরকারের অধিন নির্বাচন হলে জামায়াত-বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট অবশ্যই নির্বাচনে যাবে। জামায়াতে ইসলামী একটি আদর্শিক সংগঠন। এখানে পদ প্রত্যাশার সুযোগ নাই। আমাদের নেতা-কর্মীদের দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে যাবার কোন পথ নাই। ২০ দলীয় জোট বা সংগঠন যে প্রার্থী দেবে আমরা তার বিজয়ের লক্ষে কাজ করবো।

আগামী পর্বে থাকছে পাবনা-২ (সুজানগর-বেড়ার একাংশ) আসন।

 

 

পাবনা বার্তা ২৪ ডটকমে প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ পূর্বানুমতি ছাড়া কপি করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ না করতে অনুরোধ করা গেল। অন্যথায় কপিরাইট আইনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।