• আজ
  • শনিবার,
  • ১৯শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং
  • |
  • ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Text_2

১৬ বছর পর হার্ডিঞ্জ পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ওপরে, আতঙ্ক

প্রকাশ: ১ অক্টো, ২০১৯ | রিপোর্ট করেছেন নিজস্ব প্রতিবেদক

শুষ্ক মৌসুমে একতরফা ভাবে বন্ধ করলেও বর্ষা মৌসুমে নিজেদের রক্ষা করতে বাংলাদেশের দিকে ফারাক্কা বাঁধের ১১৯টি গেট খুলে দিয়েছে ভারত। এরপর থেকেই বাংলাদেশের নদীগুলো পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। এরই মধ্যে পদ্মা নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি বিপদসীমার ১৪ দশমিক ২৫ সেন্টিমিটার অতিক্রম করেছে। দীর্ঘ ১৬ বছর পর এই পয়েন্টে পানি বিপদসীমা অতিক্রম করল।

মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) সকাল ১০টায় পানি পরিমাপ করে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ড’র হাইড্রোলজি বিভাগ।

বিকালে বিভাগের উত্তরাঞ্চলীয় নির্বাহী প্রকৌশলী কেএম জহিরুল হক জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি বেড়েছে ১৪ সেন্টিমিটার। মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে হঠাৎ করে বিপদসীমার ১৪ দশমিক ২৫ সেন্টিমিটার অতিক্রম করেছে। যা সকাল ৯টার দিকে বিপদসীমার ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

তিনি আরও জানান, দীর্ঘ ১৬ বছর পর এই পয়েন্টে পদ্মার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করল। সর্বশেষ ২০০৩ সালে এই পয়েন্টে পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছিল।

 

এদিকে ভারত ফারাক্কা বাঁধের সবগুলো গেট খুলে দেয়ায় দ্রুত পানি বাড়ছে পদ্মায়। এতে বিভিন্ন চর ও নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ায় মানুষের মাঝে বন্যা আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ পর পদ্মার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে ধারণা করেছিল পাইবো। কিন্তু এখন যেভাবে পানিপ্রবাহ বাড়ছে তাতে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড’র একটি সূত্র দাবি করেছে, ভারতে বৃষ্টিপাতের জেরে সৃষ্ট বন্যা থেকে বিহারের রাজধানী পাটনাসহ আরো ১২ জেলাকে রক্ষার জন্য ফারাক্কা বাঁধের ১১৯টি গেটের সব গুলো খুলে দেয়া হয়েছে।

সোমবার ফারাক্কার সব গেট খুলে দেওয়ার পর থেকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের একাংশ ও বাংলাদেশে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফারাক্কার সব গেট খুলে দেওয়া এবং কয়েকে দিনের টানা বর্ষণের কারণে পদ্মার পানি বেশি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে অকাল বন্যার আশঙ্কা রয়েছে বলে পানি উন্নয়ন বোর্ড আশঙ্কা করছে।

শুষ্ক মৌসুমে ফারাক্কা পয়েন্টে পানি না থাকায় বাংলাদেশের পদ্মা নদীতে পানির প্রবাহ বাড়ে না। ফারাক্কার বিরূপ প্রভাবে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাংলাদেশের নদ-নদীগুলো। পদ্মার বুকে চরের পর চর পড়ে চলেছে। গত অর্ধশতাব্দীতে বাংলাদেশের অন্তত ৬শ’ নদ-নদী প্রকৃতি থেকে হারিয়ে গেছে বলে জানা গেছে।

ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহারের ফলে শুকনো মৌসুমে উত্তরাঞ্চলের নদীগুলো অনেকটা মরুভূমিতে পরিণত হয়। আবার ভারত বর্ষা মৌসুমে নিজেদের রক্ষা করতে ফারাক্কার সব গেট খুলে দিলে ফুঁসে তোলে বাংলাদেশের নদীগুলো। হঠাৎ করে পানি বেড়ে ভাসিয়ে নিয়ে যায় বাংলাদেশের মানুষের বাড়িঘর, ফসলসহ সবকিছু।