• আজ
  • শুক্রবার,
  • ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ইং
  • |
  • ১০ই ফাল্গুন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ


Text_2

হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করলো পাবনা পিবিআই

প্রকাশ: ৮ ফেব্রু, ২০১৯ | রিপোর্ট করেছেন প্রেস বিজ্ঞপ্তি

দীর্ঘ দেড় বছর পর হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন), পাবনা জেলা।

২০১৭ সালের ৪ আগস্ট রাত সাড়ে ১১টার দিকে পাবনার আমিনপুর থানার রামনারায়ণপুর গ্রামস্থ তোরাপ শেখ (৫৫) এর ছেলে মো. জহুরুল ইসলাম এর বাড়ি থেকে তার স্ত্রী মোছাঃ মলি বেগম (১৮) নিখোঁজ হয় বলে থানায়একটি জিডি করে মলি বেগমের পিতা একই গ্রামের আব্দুর রব ফকির (৫০)। কয়েক মাস কেটে গেলেও তার মেয়ের সন্ধান না পেয়ে সে বিজ্ঞ আদালতে মামলা করলে বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে আমিনপুর থানার মামলানং-০৬, তারখি-০৫/১১/২০১৭ খ্রিঃ, ধারা-৩৬৪/৩৪ দাখিল হয়। কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও থানা পুলিশ তদন্ত করে কোন কুল কিনারা করতে না পারায় র্উদ্ধতন কর্তৃপক্ষ মামলার তদন্তভার পিবিআই, পাবনা জেলা উপর অর্পণকরেন। পিবিআই, পাবনা জেলা প্রধান মামলাটি তদন্তের নির্দেশনা পেয়েএসআই মোঃ সবুজ আলীর উপর তদন্তভার অর্পণ করেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. সবুজ আলী কিছুদিনের মধ্যেই তথ্য-প্রযুক্তি সহায়তায় মামলার রহস্য উদঘাটন করে উক্ত ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করে। পিবিআই, পাবনা জেলা প্রধান অতিরিক্তি পুলিশ সুপার মোঃ তরিকুল ইসলাম এর সার্বিক তত্তাবধানে মূল আসামীকে গ্রেফতারের জন্য টিম গঠন করা হয়। মামলার মূল আসামীকে গ্রেফতার করার জন্য বিভিন্নস্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। তারই অংশ হিসেবে গত ৭ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) বিকেল সোয়া ৪টার দিকে পিবিআই, পাবনা জেলার একটি চৌকস টিম বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তথ্য-প্রযুক্তিরসহায়তায় মূল আসামী ভিকটিম মলি বেগমের স্বামী মোঃ জহুরুল ইসলাম (২১)কে টাঙ্গাইলের সখিপুর থানার সখিপুর জেলাখানা মোড় হতে গ্রেপ্তার করে।

পিবিআই, পাবনা জেলা প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জনাব মোঃ তরিকুল ইসলাম ও মামলার তদন্তকারীকর্মকর্তা এসআই মোঃ সবুজ আলীর সাথে কথা বলে জানা যায় যে, প্রায় ৩ বছর পূর্বে মামলার আসামী মোঃ জহুরুল ইসলামের সাথে ভিকটিম মোছাঃ মলি বেগমের বিয়ে হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামী মোঃ জহুরুল ইসলাম সাংসারিক টানপোড়নের কারণে সিএনজি চালাত।সিএনজি চালানোর প্রয়োজনে সে ভোর রাতে বের হতো এবং রাত ১০-১১ঘটিকার দিকে বাড়ী ফিরত। কয়েকমাস তাদের মধ্যে সংসার ভালভাবেই চলছিল। কিন্তু এক সময় মামলার আসামী জানতে পারে যে তার স্ত্রী ভিকটিমমলি বেগম পরকিয়ায় আসক্ত। উক্ত পরকিয়ার জের ধরে সাংসারিক অশান্তির কারণে তার বন্ধু একই গ্রামের মৃত আবু বক্করের পুত্র আল-আমিন ওরফে নয়ন (২৩) সাথে তার স্ত্রীকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে। ঘটনার দিন ২০১৭ সালের ৪ আগস্ট রাত পৌনে ১২টার দিকে মো. জহুরল ইসলাম ও তার বন্ধু আল-আমিন ওরফে নয়ন (২৪) গোপনে এক সঙ্গে ভিকটিম মলি বেগম এর ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত অবস্থায় মুখের উপর আল আমিন বালিশ চাপা দেয় এবং গলা টিপে ধরে শ্বাসরোধের চেষ্টা করে এবংআসামী জহুরুল ইসলাম বাইরে দাড়িয়ে লোকজন পাহারা দেয়। শ্বাসরোধকরার ফলে ভিকটিম মলি বেগম মারা গেলে তারা দুজন মিলে জহুরুল ইসলামের সিএনজিতে উঠিয়ে সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর বাস টার্মিনালের পরে একটি ব্রিজের উপর থেকে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেয়।

পিবিআই, পাবনা জেলা প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জনাব মোঃতরিকুল ইসলাম ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোঃ সবুজ আলী জানান, গ্রেফতারকৃত মূল আসামী ঘটনার পর থেকেই কৌশল অবলম্বন করে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় পলাতক ছিল। অনেক কৌশল অবলম্বন করে তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে । তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোর্পদ করা হয়েছে। সে তার স্ত্রীকে তার বন্ধু আল-আমিন ওরফে নয়নের সহায়তায় হত্যা করার ঘটনায় নিজেকে সম্পৃক্ত করে বিজ্ঞ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করেছে।