• আজ
  • শনিবার,
  • ১৯শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং
  • |
  • ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Text_2

স্বামী-স্ত্রীকে গাছে বেঁধে চুল কেটে মধ্যযুগীয় নির্যাতন

প্রকাশ: ২৯ সেপ্টে, ২০১৯ | রিপোর্ট করেছেন নিজস্ব প্রতিবেদক

পাবনায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক দম্পত্তিকে গাছের সাথে বেঁধে মাথার চুল কেটে এবং শরীরে সিগারেটের আগুনে দিয়ে পুড়িয়ে গুরুত্বর আহত করেছে দুর্বৃত্তরা।

শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাত ৩ টার দিকে পাবনা সদর উপজেলা দোগাছি ইউনিয়নের মাদারবাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। আহতদের পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রবিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকালে গুরুতর আহত মোছা. সখিনা খাতুন বাদী হয়ে পাবনা থানায় ৫ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাছিম আহম্মেদ মামলার এজহারের বরাত দিয়ে জানান, শনিবার রাত ৩টার দিকে মাদারবাড়িয়া গ্রামে একদল দুর্বৃত্তা বাড়িতে প্রবেশ করে জিলাল প্রামানিক এবং সখিনা খাতুন দম্পতিকে  ঘর থেকে বের করে গাছের সাথে বেঁধে মাথার চুল কেটে সিগারেটের আগুনে দিয়ে পুড়িয়ে বেধরক মারপিট করে। হামলাকারীরা বাড়িঘর ভাংচুর করে পালিয়ে গেছে। আহতদের পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান চলছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সখিনা খাতুন জানান, ‘স্থানীয় জনৈক শাহজাহান ও তার সহযোগীরা তাদের বাড়ির ২৩ শতাংশ জমির দলিল জাল করে দখলের পায়তারা করায় তাদের বিরুদ্ধে আদালতে পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করা হয়। দীর্ঘ ৮ বছর ধরে মামলা চলে আসছে। ওই মামলায় শাহজাহান আলী, মারুফ হোসেন, বকুল হোসেন ও জনিকে আসামি করা হয়। মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামিরা তাদেরকে বিভিন্ন সময়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিলো। এরই ধারাবাহিকতায় পরিকল্পিত ভাবে শনিবার রাতে তারা আমার বাড়িতে হামলা চালিয়ে আমাকে ও আমার স্বামীকে নির্যাতন করে। আমার মাথার চুল কেটে দেয় ও গায়ে সিগারেটের আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। আমি এই সন্ত্রাসীদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি করছি।’

হাসপাতালের বেডে চিকিৎসাধীন জিলাল প্রামাণিক বলেন, ‘আমি কেঁচির কারখানায় কাজ করি। আমার সামান্য জমির কাগজ জাল করে দখলের অপচেষ্টা করেছে শাহজাহান ও তার লোকজন। আদালতে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করায় একের পর এক হুমকি ধামকি দিয়ে আসছিল।’

নির্যাতনের শিকার ওই দম্পতির মেয়ে কাজলী জানান, শনিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে শাহাজাহন, খাইরুল, বিপ্লব, ফরিদ ও তৈজদ্দিনসহ ৬/৭ জনের একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্তরা মুখে কালো কাপড় বেঁধে বাড়িতে এসে মা ও বাবাকে উঠিয়ে নারিকেলের গাছের সাথে বেঁধে মারপিট শুরু করে। এ সময় দূর্বৃত্তরা আমার মার মাথার চুল কেঁচি দিয়ে কেটে দেয়। সিগারেটের আগুন দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে পুড়িয়ে দেয়। যাবার সময় বাড়ি ঘরে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করে মামলা তুলে নেয়ার হুমকি দিয়ে চলে যায়। আমরা তাদের নির্যাতন ও ভয়ে আতংকের মধ্য রয়েছি। আবার কখন আমার উপর নির্যাতন নেমে আসে।’

এ ব্যাপারে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাছিম আহম্মেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। নির্যাতিত পরিবার বর্তমানে পাবনা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। থানায় মামলা হয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যহত রয়েছে।