• আজ
  • বৃহস্পতিবার,
  • ২১শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং
  • |
  • ৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Text_2

সকালে বন্ধের আদেশ, বিকালেই খোলা!

প্রকাশ: ৫ নভে, ২০১৯ | রিপোর্ট করেছেন বিশেষ প্রতিনিধি, চাটমোহর

প্রসুতির মৃত্যুর ঘটনায় জেলা স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সকালে দায়সারা ভাবে বন্ধের আদেশ দিলেও বিকালে ফের পুরোদমে চলছে পাবনার চাটমোহরের সততা ক্লিনিক এণ্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম। ফলে প্রশ্নের মুখে পড়েছে পাবনার সিভিল সার্জন ও চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ভুমিকা।

মঙ্গলবার (৫নভেম্বর) দুপুরে মোবাইল ফোনে পাবনার সিভিল সার্জন ইকবাল মেহেদি জানান, প্রসুতির মৃত্যুর ঘটনাটি আমি বিভিন্ন পত্রিকায় পড়েছি। এপরপই টিএইচও কে নির্দেশ দেই তদন্ত করতে। জানাই, রেজিষ্ট্রেশন না থাকলে ও ক্লিনিক পরিচালনায় সরকারি শর্ত পুরন না করলে ক্লিনিক বন্ধ করে দিতে। ক্লিনিকটি বন্ধ করে দেওয়ার পর আজ (মঙ্গলবার) আমাকে ফোনে জানিয়েছেন বিষয়টি। সার্বক্ষনিক এমবিবিএস পাশ ডাক্তার না থাকলে কোন ক্লিনিক চলতে দেওয়া হবে না।

চাটমোহর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সোয়েবুর রহমানও মোবাইল ফোনে জানান, স্যারের (সার্জন) নির্দেশে ক্লিনিকটি আজই (মঙ্গলবার) বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জানাচ্ছেন, ক্লিনিকটির লাইসেন্স নেই। এমবিবিএস পাশ করা সার্বক্ষনিক ডাক্তার নেই। কোন ধরনের রেজিস্ট্রেশন দেখাতে পারেননি তারা (ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ)।

স্থানীয় একাধিক সুত্রের কথায়, দুপুরের পর থেকেই ক্লিনিকে কার্যক্রম চলতে দেখা গেছে। অনেকেই বলেছেন, ক্লিনিক বন্ধ করেছে সিভিল সার্জন এমন কোন খবর তারা জানেনই না। ক্লিনিকটি আদৌও বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে কিনা নিশ্চিত হওয়ার জন্য ক্লিনিকটির মালিকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে, করার ২৪ঘন্টা পর গেল শনিবার সন্ধা নাগাদ কন্যা নবজাতক রেখে মারা যায় আশা খাতুন নামের এক প্রসূতি। মৃত্যুর প্রায় চার ঘন্টা আগে তিনি অসুস্থ্যবোধ করেন। অভিযোগ ছিল তাৎক্ষনিক চিকিৎসা আর অবহেলার কারণে মৃত্যু হয় তার। ঘটনার সময় এমবিবিএস পাশ করা সার্বক্ষনিক ডাক্তার ছিল না। এ ঘটনার পরের দিন এ নিয়ে পাবনার বিভিন্ন পত্রিকায় খবর প্রকাশ হলে টনক নড়ে পাবনা সিভিল সার্জনের। এরপরই বন্ধ করা হয় ক্লিনিকের সব কার্যক্রম।

গুঞ্জন, রেজিষ্ট্রেশন না থাকলেও একটি সুবিধাবাদি চক্রকে মাসোয়ারা দিয়ে ক্লিনিকটি পরিচালনা করছিলেন স্বপন কুমার দাস।