• আজ
  • বুধবার,
  • ২১শে আগস্ট, ২০১৯ ইং
  • |
  • ৬ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ


Text_2

মায়ের হত্যাকারী বাবার ফাঁসি দাবিতে রাস্তায় দুই শিশু

প্রকাশ: ৯ জুন, ২০১৯ | রিপোর্ট করেছেন শহর প্রতিবেদক

মা মাহমুদা আক্তার মীমের হত্যাকারী ঘাতক বাবা পিন্টু মিয়ার ফাঁসির দাবিতে রাস্তায় দুই অবুঝ শিশু। রোববার দুপুরে পাবনা প্রেসক্লাবের সামনে ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে সবার সঙ্গে মানববন্ধনে অংশ নেয় মীমের দুই সন্তান, ছেলে আল মাহিম (৮) ও মেয়ে মুন্তাহা (৩)।

মানববন্ধনে এলাকাবাসী, মানবাধিকার কর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। ঘটনার ১৮ দিন পরও কোনো আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন বক্তারা।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন আতাইকুলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান খন্দকার মোহাম্মদ আতিয়ার হোসেন, পাবনা প্রেসক্লাবের সহসভাপতি কামাল আহমেদ সিদ্দিকী, মহিলা পরিষদ, পাবনা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুন্নাহার জলি, সেলিম নাজির স্কুলের প্রধান শিক্ষক হাসিনা আক্তার রোজি, লতিফ গ্রুপের পরিচালক মাহবুব আলী খান বাবলু, আব্দুল বাতেন খান, নিহত মীমের ছেলে মাহিম প্রমুখ। মানব্বন্ধন শেষে পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম এবং জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিনের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পাবনা সদর উপজেলার আতাইকুলা ইউনিয়নের দড়িসারদিয়ার গ্রামের আব্দুল মমিনের মেয়ে মাহমুদা আক্তার মীমের প্রায় ১০ বছর আগে বিয়ে হয় একই উপজেলার রাজাইমণ্ডল গ্রামের সগির প্রামাণিকের ছেলে গ্রাম্য চিকিৎসক পিন্টু মিয়ার সঙ্গে। বিয়ের সময় দেড় লাখ টাকা যৌতুক দেওয়া হলেও পিন্টু মিয়া প্রায়ই যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে নির্যাতন করত। গত ২১ মে রাত ২টার দিকে পিন্টু, তার চার ভাই ও এক ভাগিনা মিলে মীমকে বেদম মারধর করে রক্তাক্ত করে। একপর্যায়ে তারা গামছা দিয়ে শ্বাসরোধে মীমকে হত্যার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে মীমের বাড়ির লোকজন অচেতন অবস্থায় প্রথমে পাবনা জেনারেল হাসপাতাল এবং পরে রাজশাহীর পপুলার হাসপাতাল, সর্বশেষ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করেন তাকে। ১৭ দিন অসহ্য যন্ত্রণা ভোগের পর গত শুক্রবার সকালে মারা যান মীম।

এ ঘটনায় মীমের ভাই মেহেদী হাসান বাদী হয়ে পিন্টু মিয়াকে প্রধান এবং তার চার ভাই রেজাউল করিম, দোলোয়ার হোসেন, মিজানুর রহমান, মিলন হোসেন এবং ভাগিনা শাকিল হোসেনকে আসামি করে আতাইকুলা থানায় মামলা করেন। তবে পুলিশ এখনও কোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি।

এ ব্যাপারে পাবনার পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম বলেন, আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তারা কোনো মতেই পালিয়ে বাঁচতে পারবে না।