• আজ
  • শুক্রবার,
  • ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ইং
  • |
  • ১০ই ফাল্গুন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ


Text_2

ভিসি’র সাথে দ্বন্দ্বে পাবিপ্রবি’র প্রো-ভিসির পদত্যাগ

প্রকাশ: ৬ ফেব্রু, ২০১৯ | রিপোর্ট করেছেন নিজস্ব প্রতিবেদক

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জেরে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (উপ-উপাচার্য) প্রফেসর ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম তার পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছেন।

বুধবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে তিনি এই আবেদন করেন।

বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সম্প্রতি কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেও জানান।

পদত্যাগ চাওয়া প্রো-ভিসি ড. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ভাইস চ্যান্সেলর স্যার সকালে এক সিদ্ধান্ত নেন, বিকেলে তিনি আবার সেই সিদ্ধান্ত পাল্টে দেন। বর্তমানে পাবিপ্রবিতে কাজের উপযুক্ত পরিবেশ নেই। এমতাবস্থায় তার পক্ষে দায়িত্ব পালন করা সম্ভব নয় বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও দাবি করেন, সম্প্রতি নেশাগ্রস্থ অবস্থায় শহরের রাধানগর মহল্লার একটি ছাত্রীনিবাসে মদ্যপ অবস্থায় ঢুকে পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায়। এ সময় ওই বখাটে ছাত্রীকে বিভিন্ন ভাবে উত্যক্ত করে। এ ঘটনার প্রতিবাদে পরদিন ক্যাম্পাসে বিক্ষুব্ধ সহপাঠিরা বিক্ষোভ করেন এবং সকল শিক্ষার্থীর নিরাপত্তার দাবি জানান। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা পাবনা-নগরবাড়ি মহাসড়ক অবরোধ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সুষ্ঠু দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অভিযোগ এনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পদত্যাগও দাবি করেন।

তিনি জানান, ভাইস চ্যান্সেলর স্যার এই বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকে গত দশ মাসে সুষ্ঠু পরিবেশে একাধারে এক সপ্তাহও বিশ্ববিদ্যালয় চালাতে পারেন নাই। তার ব্যর্থতার দায়ভার আমি নিব কেন? প্রতিনিয়ত একের পর এক বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন ঝামেলা লেগেই থাকে। ইতিপূর্বে জরুরি রিজেন্ট বোর্ডের সভা করে ১০ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের পর তা ২০ দিনের মাথায় আবারও বোর্ড সভা করে তা প্রত্যাহার করে নেন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ে চেইন অব কমান্ড একেবারে ভেঙে পরে। ডেপুটি রেজিস্ট্রার প্রো-ভিসির আদেশ-নির্দেশ অমান্য করে, তাই আমি মনে করি এখানে একদমই কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ নেই।’

ডেপুটি রেজিস্ট্রার বিজন কুমার ভ্রহ্ম বলেন, ‘আমার কোনো ক্ষমতা নেই। এখানে ভাইস-চ্যান্সেলর স্যার সর্বোচ্চ ক্ষমতাশালী। তিনি যে সিদ্ধান্ত নেবেন, তার বাইরে আমি যেতে পারি না।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি আওয়াল কবির জয় বলেন, ‘প্রো-ভিসি স্যারের যাওয়ার জায়গা আছে বলেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমাদের অন্য কোথাও সুযোগ থাকলে আমি নিজেও এখানে থাকতাম না। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নির্বাচন নিয়ে তিনি হস্তক্ষেপ করার কারণে নির্বাচন স্থগিত করে রেখেছেন নির্বাচন কমিশন। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থা খুবই করুণ।’

এ বিষয়ে রিজেন্ট বোর্ড সদস্য ড. আব্দুল আলীম বলেন, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নানাবিধ অস্থিরতা বিরাজ করছে। প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর স্যারের পদত্যাগ এরই সর্বশেষ বহিঃপ্রকাশ।

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর (ভিসি) ড. রোস্তম আলী ফরাজী ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, সম্প্রতি একটি বিষয় নিয়ে ডেপুটি রেজিস্ট্রার বিজন কুমার ভ্রহ্ম’র সাথে একটু ঝামেলা হয়েছে, এটি বসেই সমাধান করা যেত। আমি তাকে এমন সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার জন্য বলেছি। এটি পদত্যাগ করার মতো কিছু নয়।’

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলাম ৪ বছরের জন্য ২০১৬ সালের ১৬ অক্টোবর পাবিপ্রবিতে প্রো-ভিসি হিসেবে যোগদান করেন।