• আজ
  • শুক্রবার,
  • ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ইং
  • |
  • ১০ই ফাল্গুন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ


Text_2

ভাঙ্গুড়ার সেই ভূয়া চিকিৎসক নীলফামারী থেকে গ্রেফতার

প্রকাশ: ১১ ফেব্রু, ২০১৯ | রিপোর্ট করেছেন নিজস্ব প্রতিবেদক

অন্য ব্যক্তির নাম সনদ ও বিএমডিসির নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে পাবনার ভাঙ্গুড়ার একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়ার ঘটনায় ওই ভূয়া চিকিৎসককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সোমবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকালে পুলিশ তাকে নীলফামারীর সৈয়দপুর থেকে তাকে গ্রেফতার করেন। গ্রেফতারকৃত ওই ভূয়া চিকিৎসক ওই জেলার সৈয়দপুরের হাতিখানা গ্রামের শেখ মো. আব্দুল হান্নানের ছেলে মাসুদ রানা।

পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গ্রেফতারকৃত মাসুদ রানা দীর্ঘ ৭ বছর ধরে পাবনার ভাঙ্গুড়া হেলথ কেয়ার নামের একটি ক্লিনিকে লক্ষাধিক টাকা বেতনে কর্মরত থেকে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছিলেন। তিনি ঢাকার ডা: মাসুদ করিম নাম, বিএমডিসির নিবন্ধন নম্বর ও সনদ ব্যবহার করে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা তদন্ত করে ভূয়া চিকিৎসককে নীলফামারী জেলা পুলিশের সহায়তায় সৈয়দপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে, তবে তাকে পাবনায় আনা হচ্ছে।

তিনি আরো জানান, প্রকৃত চিকিৎসক নিজে আমার নিকট এসে বলেছেন তিনি ১৯৯০-৯১ সেশনে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। তিনি ছিলেন ২৮তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। এমবিবিএস শেষ করে নিবন্ধন পান বিএমডিসির, যার নিবন্ধন নং ৩৩৩৬০। বর্তমানে ঢাকার খিলগাঁওয়ে নিজস্ব ডক্টরস চেম্বারে প্রাইভেট চিকিৎসা দেন। স্থায়ী ঠিকানা ফেনীর সোনাগাজী। বাবার নাম আব্দুস শাকুর। বন্ধু চিকিৎসকদের মাধ্যমে জানতে পেরে পাবনায় ছুটে আসেন তিনি। তার নাম-পরিচয় ও নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার করে একজন চিকিৎসক সেজে কাজ করছেন, বিষয়টি তার নিকট খুবই অপমানজক বলেও জানান তিনি।

পরে তিনি বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভিন্ন শাখায় এবং পাবনা সিভিল সার্জনকে লিখিত অভিযোগ দেন। সম্প্রতি তার একটি ছবি দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দেন প্রকৃত চিকিৎসক মাসুদ করিমের বন্ধুমাহবুব উল কাদির। আর চিকিৎসক বন্ধুদের সহায়তায় বিষয়টি জানতে পেরে পাবনায় ছুটে আসেন আসল ডা. মাসুদ করিম। এমন প্রতারণায় বিস্মিত হন তিনি। ঘটনা জানাজানি হওয়ায় গা ঢাকা দেন কথিত ভূয়া চিকিৎসক মাসুদ করিম। তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন বিএমএর পাবনা শাখার আজীবন সদস্যও ছিলেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনাও হয়। পরে প্রকৃত ডা: মাসুদ করিম জেলা সিভিল সার্জন ও পুলিশ সুপার বরাবর আবেদন করে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেন।

বিষয়টি নিয়ে ভাঙ্গুড়া হেলথ কেয়ার ক্লিনিকের মালিক আব্দুলজববার জানান, তার কাগজপত্র দেখে কখনও মনে হয়নি তিনি ভূয়াচিকিৎসক। আর তিনি আমার এখানে চাকুরী করার আগে পাবনাশহরেও দীর্ঘদিন বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেছেন।