• আজ
  • মঙ্গলবার,
  • ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং
  • |
  • ২রা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Text_2

প্রধানমন্ত্রী আবারও হতাশ নাকি খুশি করবেন?

প্রকাশ: ১৩ জুলা, ২০১৮ | রিপোর্ট করেছেন

শামসুল আলম

২০০৮ সালে রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসার পর ৩য় বারের মতো পাবনায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা। গত বছরের নভেম্বরে ঈশ্বরদীর রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের মূল নির্মাণকাজের প্রথম কংক্রিট ঢালাই উদ্বোধন করেই ফিরে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

শনিবার (১৪ জুলাই) ঈশ্বরদীর রূপপুরে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের মূল নির্মাণকাজের প্রথম কংক্রিট ঢালাই উদ্বোধনের পাশাপাশি পাবনা শহরের পুলিশ লাইন মাঠে আওয়ামী লীগের জনসভায় বক্তব্য দিবেন তিনি। পাশাপাশি ছোট-বড় ৩১ প্রকল্প উদ্বোধন ও ১৮ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ঘিরে পাবনায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। গোটা জেলা সেজেছে বর্ণিল সাজে। আশায় বুক বেঁধেছেন পাবনাবাসী। তাদের প্রত্যাশা এবার মুজিবকন্যা পাবনাবাসীর জন্য চমকপ্রদ ঘোষণা দিবেন। তাদের দীর্ঘদিনের চাহিদাগুলো পূরণের সুস্পষ্ট ঘোষণা দিবেন। হতাশ করবেন না ২০১৩ সালে প্রথম সফরের মতো।

২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ১৫ বছর পর পাবনায় এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পাবনা জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ মাঠের জনসভায় ভাষণ দিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। সেদিন উজ্জীবিত পাবনার সাধারণ মানুষগুলো জনসভার মাঠ ছেড়ে ছিলেন হতাশ আর ক্ষোপ নিয়ে। পাবনাবাসী সেদিন আশা করেছিলো নতুন কিছুর ঘোষণা দিবেন।

বঙ্গবন্ধুকন্যার ওই সফরে সবচেয়ে হতাশ হয়েছিলো জনসভাস্থল সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা। কলেজকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণার পাশাপাশি সুবিধাবঞ্চিত ছাত্র-ছাত্রীদের যাতায়াতের জন্য একটি মাত্র বাস চাওয়া হয়েছিল। সেদিন বক্তব্যের শেষের দিকে প্রধানমন্ত্রীর হাতে একটি কাগজ ধরিয়ে এডওয়ার্ড কলেজে একটি বাস দাবি করলেও সঙ্গে সঙ্গেই নাকোচ হয়ে যায়। আশাহত শিক্ষার্থীরা হতাশ হয়ে মাঠ ছাড়ে।

এছাড়াও পাবনাবাসীর বিশ্বাস ছিল টেবুনিয়ার কৃষিফার্মকে পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা মানসিক হাসপাতাল আধুনিকায়ন, পাবনা পৌরসভাকে সিটি করপোরেশন, পাবনা শহরের মৃতপ্রায় ইছামতি নদীর পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করতে করণীয়, কাজিরহাট-আরিচা-দৌলতদিয়া দিয়ে ত্রিমুখী y (ওয়াই) সিস্টেমের পদ্মাসেতু, ঈশ্বরদী বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক মানের, ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশনকে আধুনিকায়ন, পাকশী পেপার মিলস পুনরায় চালু ও পাবনায় একটি বিনোদন কেন্দ্রসহ কিছু চমকপ্রদ ঘোষণা দিবেন তিনি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে এ ধরনের কোনো ঘোষণাই আসেনি সেদিন।

সেদিনের হতাশাগ্রস্ত পাবনাবাসী আবারও আশায় বুক বেধেছেন। বর্তমান সরকারের মেয়াদের শেষের দিকে হলেও এবার ঘোষণা দিয়ে যাবেন  শেখ হাসিনা। যদিও পূর্বনির্ধারিত ৪৯টি প্রকল্প উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন তিনি। কিন্তু তুলনামূলক ছোট, গুরুত্বহীন ও ধারাবাহিক এইসব প্রকল্পে সন্তুষ্ট নয় পাবনাবাসী। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জা আজিজুল ইসলামের দেয়া পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পাবনা মেডিকেল কলেজ, পাবনা-ঢালারচর রেললাইনের মতো বড় প্রকল্পের ঘোষণা চায় পাবনাবাসী। দীর্ঘদিনের উপরোক্ত সেই চাওয়াগুলো পূরণের সুস্পষ্ট ঘোষণা দিয়েই জনসভার মাঠ ছাড়বেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। আর খুশিতে বাড়ি ফিরবেন এমনটাই প্রত্যাশা পাবনাবাসীর।

লেখক: সংবাদকর্মী ও শিক্ষার্থী