• আজ
  • শনিবার,
  • ২৩শে মার্চ, ২০১৯ ইং
  • |
  • ৯ই চৈত্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ


Text_2

পাবনা প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের পদত্যাগের দাবিতে অনশন

প্রকাশ: ২৬ নভে, ২০১৮ | রিপোর্ট করেছেন নিজস্ব প্রতিবেদক

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সাত দফা দাবীতে অবস্থান কর্মসূচী ও প্রতিকী অনশন পালন করেছন। সোমবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১২টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে তারা এই কর্মসূচী পালন করে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক-কর্মকর্তা কর্মচারীরা ক্যম্পাসে ঢুকতে বাধাপ্রাপ্ত হয়।

শিক্ষার্থীদের দাবীগুলোর মধ্যে সকল প্রশাসনিক কর্তা ব্যাক্তিদের পদত্যাগ, দশ শিক্ষার্থীর অবৈধ বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার, শিক্ষার্থীদের নায্য দাবী মেনে নেয়া, ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম চালুকরনসহ সাত দফা দাবীতে তারা এই কর্মসূচী পালন করে।

অবস্থান কর্মসূচী চলাকালে শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে ক্যম্পাসে নিয়মতান্ত্রিকভাবে সাত দফা দাবীতে আন্দোলন করছিলাম। দাবীগুলোর মধ্যে ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষসহ পরবর্তী সকল ব্যাচ সমূহের অডিন্যান্সের আওতাভুক্ত করা, হলের ডাইনিংয়ের খাবার উন্নয়নের জন্য ভর্তূকি প্রদান, ক্লাস রুম ও চেয়ার সংকট দূর করা, পরিবহন সংকট সমাধান, ক্যাম্পাসে ওয়াইফাই চালু এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করা উল্লেখযোগ্য। প্রশাসন আমাদের আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন করেনি। এর প্রেক্ষিতেই ৫ নভেম্বর আমরা প্রশাসন ভবনে তালা ঝুলিয়ে আন্দোলন করি। ওই দিন ভাইস চ্যান্সেলর স্যার আমদের সাথে কথা বলার সময় ধাক্কা ধাক্কির একটি অনাকাংখিত ঘটনা ঘটে। তারপর তিনি আমাদের সাথে কোন প্রকার আলাপ আলোচনা ছাড়াই রিজেন্ট বোর্ডের সভা করে ১০ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার ও ক্যম্পাস অনির্দিষ্টকালের জন্যে বন্ধ ঘোষণা করেন।

শিক্ষার্থীরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে ক্যম্পাস খুলে দিয়ে দ্রুত ক্যম্পাসে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবী করেন এবং একই সাথে সকল অযোগ্য, অদক্ষ প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয় চালাতে ব্যার্থ প্রশাসনের বিশেষ করে বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর, প্রো ভাইস চ্যান্সেলর, কোষাধাক্ষ্য, প্রক্টর, ছাত্র উপদেষ্টাসহ সকল প্রশাসনিক পদের কর্তা ব্যাক্তিদের অবিলম্বে পদত্যাগ দাবী করেন।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষক জানান, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও আমাদের অফিস চলছিল, তাই আমরা সকালে ক্যম্পাসে ঢুকতে গেলে সাধারন শিক্ষার্থীরা আমাদের বাধা প্রদান করে। পরে আমরা ফিরে আসি। এদিকে কয়েকজন কর্মকর্তা সকালে ক্যম্পাসে ঢুকে আটকা পরেন বলেও জানান তারা।

ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের শিক্ষক কামাল হোসেন বলেন, পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্যে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহন করা উচিত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের।

তবে বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারন সম্পাদক কিসলু নোমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অচলাবস্থা নিরসনের জন্যে দ্রুত কর্তৃপক্ষের সাধারন শিক্ষার্থীরে সাথে আলাপ আলোচনা করে নিরসন করা দরকার। এতে শিক্ষার্থীদের সাথে আমাদেরও অনেক ক্ষতি হচ্ছে বলে তিনি দাবী করেন।

এ বিষয়ে প্রো ভাইস চ্যান্সেলর আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই ভিসি স্যারসহ আমরা কয়েক দফা বৈঠক করেছি। খুব দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।