• আজ
  • শুক্রবার,
  • ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ইং
  • |
  • ১০ই ফাল্গুন, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ


Text_2

পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নাটকীয় পরিবর্তন, তবে…

প্রকাশ: ২৮ জানু, ২০১৯ | রিপোর্ট করেছেন নিজস্ব প্রতিবেদক

দুদকের অভিযান ও প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর নাটকীয় পরিবর্তন আসতে শুরু করেছে পাবনা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থায় । প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পূর্বে দু’একজন চিকিৎসক সঠিক সময়ে আসলেও অধিকাংশই আসতেন দেরীতে। সোমবার সকাল ৮টা থেকে নির্ধারিত সময়েই চিকিৎসক ও কর্মচারীরা কর্মস্থলে উপস্থিত পাওয়া গেছে। তবে, ধারণক্ষমতার অধিক রোগী হাসপাতালে ভর্তি থাকায় কাঙ্খিত সেবা প্রদান সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

গত ২২ জানুয়ারি পাবনা জেনারেল হাসপাতালে আকস্মিক অভিযান চালায় দুদক। সেদিন, সকাল ৯ টায় হাসপাতালে ৪৯ জনচিকিৎসকের মধ্যে মাত্র ১৪ জনকে উপস্থিত পান দুদক কর্মকর্তারা। রবিবার স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় পরিদর্শনে গিয়ে কর্মস্থলে অনুপস্থিত চিকিৎসক কর্মচারীদের ওএসডি করার নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। আর এতেই বদলে গেছে পাবনা জেনারেল হাসপাতালের চিত্র।

সোমবার সকালে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালে প্রশাসনিক কমকর্তা-কর্মচারী এবং চিকিৎসক উপস্থিতির হারও প্রায় শতভাগ রয়েছে। সকাল শিফটে চল্লিশ জন ডাক্তারের মধ্যে ছত্রিশ জনকেউপস্থিত পাওয়া গেছে আর তিনজন ছুটিতে রয়েছেন।

সোমবার সকালের শিফটে হাসপাতালে ডাক্তার, নার্স, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, কর্মচারী, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মটারী মিলিয়ে ৩০১ জন অফিস স্টাফ এর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ১৬৪ জন। বাকী ১৩৭ জন ডাক্তার,
কর্মকর্তা, কর্মচারীদের দুপুর এবং রাতে তাদের ডিউটি রয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এদিকে হাসপাতালে চিকিৎসক ও কর্মকর্তা কর্মচারী উপস্থিতির হার সন্তোষজনক হলেও সেবার মান নিয়ে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে রোগীদের। হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক, নার্স এবং কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীরা। পাশাপাশি হাসপাতালে বিভিন্ন বেসরকারী হাসপাতালের দালাল চক্রের প্রকাশ্য তৎপরতাও দেখা গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, কেবল সাধারণ এক্সরে ছাড়া রোগ নির্ণয়ের সকল পরীক্ষার জন্যই বেসরকারী ডায়াগনিস্টক সেন্টারে পাঠিয়ে দেয়া হয়। হাসপাতালের কর্মকর্তা কর্মচারীরা এসব ডায়াগস্টিক সেন্টার থেকে কমিশন পান এবং নির্দিষ্ট দালালের মাধ্যমে রোগীদের বাইরে থেকে পরীক্ষা করিয়ে আনেন। হাসপাতালের নিজস্ব সিটি স্ক্যান, ডিজিটাল এক্সরে, ইসিজি সহ অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি লোকবল সংকটের অযুহাতে ইচ্ছাকৃত নিষ্ক্রিয় করে রাখা হয়েছে। সরেজমিনে এসব অভিযোগের সত্যতাও মিলেছে।

পাবনা সুজানগর থেকে আসা রোগী কামরুল ইসলাম বলেন, গত বুধবার থেকে আমার শিশু কন্যা কে নিয়ে হাসপাতালে রয়েছি। মাত্র একদিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে দেখাতে পেরেছি। কেবল পাঁচ দশ টাকা দামের সিরিঞ্জ ছাড়া সকল ওষুধই বাইরে থেকে কিনতে হয়েছে। স্যালাইন পরিবর্তন বা কোন অসুবিধায় নার্সের সহযোগীতা চাইলে তারা বিরক্ত হয়ে খারাপ ব্যবহার করেছেন।

শহরের কফিলউদ্দিন পাড়ার বাসিন্দা মহসিন আলী অভিযোগ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আমরা আশাবাদী। এখন তাও ডাক্তারের আনা গোনা দেখা যাচ্ছে। তবে প্রয়োজনীয় সেবা না পেলে উপস্থিতি কোন কাজে আসবে না। চিকিৎসকদের সদিচ্ছা ছাড়া হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার পরিবর্তন সম্ভব নয়।

হাসপাতালের কক্ষ এবং টয়লেট অপরিচ্ছন্ন ও ব্যবহার অনুপযোগী বলেও অভিযোগকরেন তিনি।

তবে, সেবার মান প্রসঙ্গে রোগীদের অভিযোগ প্রসঙ্গে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. রঞ্জন কুমার দত্ত বলেন, পাবনা জেনারেল হাসপাতাল ২৫০ শয্যার হলেও প্রতিদিন গড়ে হাজারের উপরে রোগী ভর্তি থাকেন। আমাদের যে জনবল আছে তাতে ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও প্রত্যাশিত সেবা প্রদান সম্ভব হয় না। এরপরেও আমি সংশিষ্ট সকলকে সংশোধন হতে প্রধানমন্ত্রীর সতর্কবার্তা পৌঁছে দিয়েছি। আশাকরছি দ্রুততম সময়ে সেবার মানও বৃদ্ধি পাবে।

তবে, পরিষ্কার -পরিচ্ছন্নতার জন্য রোগী ও তাদের স্বজনদের দায়িত্বহীন আচরণই বেশী দায়ী। এক্ষেত্রে রোগীর স্বজনদের দায়িত্বশীল আচরণের অনুরোধ জানান তিনি।