• আজ
  • বৃহস্পতিবার,
  • ২১শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং
  • |
  • ৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Text_2

পাবনায় ভিকটিমের সঙ্গে থানায় বিয়ে: সেই ‘ধর্ষক’ আটক

প্রকাশ: ১০ সেপ্টে, ২০১৯ | রিপোর্ট করেছেন

পাবনায় গণধর্ষণের অভিযোগ তোলা গৃহবধূর সঙ্গে অভিযুক্ত ধর্ষকের বিয়ে দেওয়ার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। সেই সঙ্গে মামলার এক নম্বর আসামি ও ধর্ষণের মূল অভিযুক্ত রাসেল হোসেনকে আটক করেছে পুলিশ।

পাবনা সদর থানার ওসি (তদন্ত) আসাদুজ্জামান জানান, সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকালে পাঁচ জনের নামে ভিকটিম অভিযোগ করলে রাতেই মামলা নথিভুক্ত হয়। মামলার নম্বর ৩৪। মামলার আসামিরা হলো রাসেল, ঘন্টু, হোসেন আলী, ওসমান ও সঞ্জু।

পাবনার পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম জানান, ‘থানায় ধর্ষণের মামলা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি রাসেলকে আজ গ্রেফতার করা হয়েছে। আগামীকাল (বুধবার) তাকে আদালতে উপস্থাপন করা হবে।’

এদিকে মামলা দায়েরের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পাবনার পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম। এ সময় ভুক্তভোগী পরিবারের সাথে কথা বলে ঘটনাস্থল থেকে ধর্ষণের আলামত জব্দ করে পুলিশ।

পাবনা সদর উপজেলার দাপুনিয়া ইউনিয়নের সাহপুর যশোদল গ্রামের তিন সন্তানের মা ওই গৃহবধূ অভিযোগ করেন, প্রতিবেশী রাসেল আহমেদ গত ২৯ আগস্ট এক সহযোগীসহ তাকে তার বাড়িতে ধর্ষণ করে। দুই দিন পর (৩১ আগস্ট) তাকে একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের অফিসে নিয়ে তিন দিন আটকে রেখে সেখানেও চার-পাঁচ জন তাকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করে। বিষয়টি ওই নারী বাড়ি ফিরে স্বজনদের জানালে গত ৫ সেপ্টেম্বর তাকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সেই গৃহবধূ নিজেই বাদী হয়ে পাবনা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

এদিকে পুলিশ প্রথমে রাসেলকে আটক করে। আর ওই নারীর রিকশাচালক স্বামীকে তালাক দিতে বাধ্য করে। এরপর অভিযুক্ত রাসেলের সঙ্গে অভিযোগকারী ওই নারীকে থানায় ডেকে এনে বিয়ে দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

এ বিষয়ে দাপুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য দৌলত আলী জানান, তার উপস্থিতিতেই এলাকা থেকে পাবনা সদর থানার এসআই একরামুল হক ধর্ষণের অভিযোগে রাসেলকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে তারা শুনেছেন রাসেলের সঙ্গে ওই নারীর বিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনা নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ধর্ষণ মামলা নথিভুক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং সদর থানার ওসিকে শোকজ করে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। পরে সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকালে ওই গৃহবধূকে থানায় ডেকে নিয়ে মামলা দায়ের করে পুলিশ।