• আজ
  • বুধবার,
  • ২১শে আগস্ট, ২০১৯ ইং
  • |
  • ৬ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ


Text_2

পাবনায় ছাত্রলীগের হাতে শিক্ষক লাঞ্ছিত: মূল হোতাকে বাদ দিয়ে মামলা

প্রকাশ: ১৬ মে, ২০১৯ | রিপোর্ট করেছেন নিজস্ব সংবাদদাতা

পাবনায় শিক্ষককে মারপিটের ঘটনার মূল হোতাকে বাদ দিয়ে মামলা করায় বিক্ষুব্ধ পাবনার শিক্ষক সমাজ। ক্ষুব্ধ শিক্ষকরা এই ঘটনার মূল হোতাসহ জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবী করে বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরে মানববন্ধনে এসব অভিযোগ করেন।

এদিকে ওই ঘটনায় মামলা দায়েরের পর দুই জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বিসিএস সাধারন শিক্ষা সমিতি পাবনা জেলা শাখা আয়োজিত মানববন্ধনে জেলার সকল সরকারী কলেজের শতশত শিক্ষক অংশ গ্রহন করেন।

মানববন্ধন চলাকালে একাধিক শিক্ষকরা জানান, পাবনা সদর আসনের সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্স এবং জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি শিবলী সাদিক প্রভাবে মামলায় শামসুদ্দিন জুন্নুনের নাম বাদ দিয়ে মামলা দায়ের করানো হয়। অথচ জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি শিবলী সাদিকের ডান হাত হিসেবে শহরে পরিচিত জুন্নুনকে বাচানোর জন্যে রাজনৈতিক মহলের এমন চাপ থাকা মোটেও ঠিক নয়। আমরা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষকতার মতো মহান পেশায় জড়িত হয়েছি। তাই বলে আমাদের নুন্যতম ইজ্জত নিশ্চিত করে কাজ করতে হবে। একই সাথে তারা কর্মক্ষেত্রে সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতের দাবী করেন। যারাই এই মামলায় হস্তক্ষেপ করার চেষ্টা করছেন, তাদের নিকট অনুরোধ করছি সন্ত্রাসীদের পক্ষে অবস্থান না নেওয়ার জন্যে। বুলবুল কলেজে শিক্ষার নুন্যতম পরিবেশে নেই, প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ফেরানোর জন্যে হলেও পাবনা বাসীর অন্তত এই বিষয়ে সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন।

ছাত্রলীগ নামধারী কতিপয় ছাত্র ও বহিরাগতদের অত্যাচারে আমরা অতিষ্ঠ। গত কয়েক বছরে অন্তত প্রায় ১৫ শিক্ষক তাদের দ্বারা লাঞ্চিত হয়েছেন। কেউবা কলেজ থেকে নিরবে বদলী নিয়ে চলে গেছেন।
মানববন্ধনে তারা আরো অভিযোগ করেন, বুলবুল কলেজের ছাত্রসংসদ ভবন গত এক দশকেরও বেশী সময় ধরে জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি নিজ দখলে রেখেছেন। আবার জুন্নুনও ক্যম্পাসে অফিস করেছেন। তারা কলেজ চলাকালীন সময় থেকে রাত অবধি বিভিন্ন শ্রেনী পেশার লোকজনকে নিয়ে আড্ডারত থাকেন। বিষয়টি প্রশাসনের দেখার অনুরোধও জানান তারা।
মানববন্ধন চলাকালে বিসিএস সাধারন শিক্ষা সমিতি পাবনা জেলা শাখার সভাপতি প্রফেসর মোঃ শহিদুল ইসলাম, সহযোগী অধ্যাপক আব্দুর রব, রাজু আহমেদ, নুরে আলম, কামরুজ্জামান, আতিকুল ইসলাম প্রমুখ শিক্ষক নেতারা বক্তব্য দেন।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওবায়দুল হক বলেন, গত বুধবার রাতে পাবনা সরকারী শহীদ বুলবুল কলেজের অধ্যক্ষ এস এম আব্দুল কুদ্দুস বাদী হয়ে দুইজনের নাম উল্লেখসহ আরো তিন চারজনকে অজ্ঞাত করে মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পরই রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে পাবনা সদরের মালঞ্চি এলাকা থেকে এজাহারভুক্ত দুই আসামি সজল ইসলাম ও শাফিন শেখকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সজল ইসলামের বাবার নাম মো. শাহেদ আলী। তার বাড়ি ঈশ্বরদীর গোকুল নগরে। অন্যদিকে শাফিন শেখের বাবার নাম মো. ইউসুফ আলী শেখ। তবে মামলায় ঘটনার মূল অভিযুক্ত সরকারী শহীদ বুলবুল কলেজ শাখা ছাত্রলীগ সভাপতি সামসুদ্দিন জুন্নুনের নাম এজহারের উল্লেখ করা হয়নি।

এদিকে জেলা ছাত্রলীগের নিজস্ব প্যাডে সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়েছে, অনিবার্য কারন বশত সরকারী শহিদ বুলবুল কলেজ ছাত্রলীগের কমিটি সাময়িক ভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

মারপিটের শিকার বুলবুল কলেজের বাংলার শিক্ষক মাসুদুর রহমান বলেন, আমি গত ৪ দিন পর বাসা থেকে বের হওয়ার পর দেখছি আমাকে অপরিচতরা অনুসরণ করেন, আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছি। এদিকে স্থানীয় সংসদ সদস্য’র চাপে শুনেছি অধ্যক্ষ স্যার ঘটনার মুল হোতাকে বাদ দিয়ে পাবনা সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। আসলে আমি বুঝতে পারছি না আমার কি হয়। পুনরায় যদি আমার উপর হামলার ঘটনা ঘটে তাহলে আমি নিশ্চিত আমাকে তারা শেষ করে ফেলবে।

পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম ফারুক প্রিন্স মামলায় জুন্নুনের নাম বাদ দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, আমি জেলা ছাত্রলীগকে ডেকে বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে জড়িতদের শাস্তি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি মাত্র। অধ্যক্ষর দায়েরকৃত মামলার কারা আসামী হবে না হবে সেটি বাদীর নিজস্ব ব্যাপার, এখানে আমার কিছু বলার নেই। তবে কলেজ শিক্ষকরা আমার কাছে এসেছিল, তারা কলেজ ছাত্রলীগের কর্মকান্ড সম্পর্কে আমাকে অবহিত করেছেন।
প্রসঙ্গত, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অসাদুপায় অবলম্বনে বাধা দেয়ায় পাবনায় কলেজ শিক্ষক মাসুদুর রহমানকে লাঞ্ছিত করেছে ছাত্রলীগ ক্যাডাররা। গত ১২ মে তারিখের এই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বুধবার সারাদেশে নিন্দার ঝড় উঠে।