• আজ
  • শনিবার,
  • ২৩শে মার্চ, ২০১৯ ইং
  • |
  • ৯ই চৈত্র, ১৪২৫ বঙ্গাব্দ


Text_2

পাবনার ৯২টি ইটভাটার মধ্যে ৭৬টিই অবৈধ, ধ্বংস হচ্ছে ফসল ক্ষেত, ঝুঁকিতে স্বাস্থ্য

প্রকাশ: ১৮ ফেব্রু, ২০১৯ | রিপোর্ট করেছেন নিজস্ব প্রতিবেদক

পাবনায় লাইসেন্স ছাড়াই অবাধে চলছে ইটভাটা। জেলার বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠা ৯২টি ইটভাটার মধ্যে ৭৬টিই চলছে অবৈধভাবে। কোন প্রকার লাইসেন্স ছাড়াই চলা এসব ইটভাটায় জ্বালানী হিসাবে কাঠখড়ি এবং ইট তৈরীতে ব্যবহার করা হচ্ছে ফসলী জমির মাটি। এতে একদিকে অবাধে নিধন হচ্ছে বৃক্ষ আর ধ্বংস হচ্ছে প্রকৃতিক পরিবেশ। ফলে পাবনা জেলায় পরিবেশ বিপর্যয়েরআশংকা দেখা দিয়েছে।

পাবনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে জানা গেছে, জেলায় মোট ৯২টি ইটভাটা রয়েছে। এর মধ্যে ৭৬টির লাইসেন্স নাই।

একটি সুত্রজানায়, পাবনা সদর, সুজানগর ও চাটমোহর সহ বিভিন্ন উপজেলার গ্রামাঞ্চলের আবাসিক এলাকায় এবং ফসলি জমিতে প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে অবাধে গড়ে উঠছে ইটভাটা। এসব ইটভাটার অধিকাংশই স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্মিত গ্রামীণ সড়কের আশপাশে। এছাড়া বেশ কয়েকটি ইটভাটার আশপাশে রয়েছে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র, ফসলী ক্ষেত, বসত বাড়ী ও বন বাগান এবংজলাভূমি।

সরজমিন পাবনা সদর উপজেলার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের বাঙ্গাবাড়িয়াগ্রামে গিয়ে দেখা যায়, মেসার্স এসডিএ’ এ নামক একটি ইটভাটারয়েছে। যার প্রোাইটার মো: আতিউর রহমান। উক্ত ইটভাটাটি জনাকীর্নআবাসিক এলাকায় গ্রামের প্রধান সড়কের পাশেই আবাদি কৃষি জমির উপরস্থাপিত। উক্ত ভাটার পাশেই ব্যক্তি মালিকানাধীন বেশ কয়েকটি বনজ ফলজ বৃক্ষসমৃদ্ধ বাগান রয়েছে। ভাটার এক কিলোমিটারের কম দূরত্বের মধ্যে রয়েছে পাবনা মেডিকেল কলেজ, পাবনা মানসিক হাসপাতাল ও শ্রী শ্রী ঠাকুরঅনুকূল চন্দের আশ্রম। এছাড়াও রয়েছে একটি উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এ সমস্ত অবৈধ ইটভাটা প্রশাসনের নিস্কৃয়তায় কখনো কখনো সহযোগিতা ও যোগসাজসে পরিচালিত হচ্ছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করেছে।

অবৈধ ইটভাটার কারণে ধ্বংস হচ্ছে উন্নয়নশীল কৃষি আবাদী জমি। বায়ু মন্ডলের কার্বনডাই অক্সাইড বৃদ্ধির সাথে ক্ষতি গ্রস্থ হচ্ছে ওজন স্তর। এছাড়া বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে জলবায়ু সংকটপুণ্য অবস্থায় পতিত হয়েছে। ভাটা সংলগ্ন এলাকাবাসী জনসাধারণের শ্বাসকষ্ট, এ্যাজমা, হাপানী ও চোখের বিভিন্ন রোগ দেখা দিচ্ছে। ইটভাটাথেকে নির্গত বিষাক্ত ধোয়ায় ইতিমধ্যেই ফসলের উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে। এছাড়া ফলজ বৃক্ষের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যহত হচ্ছে। সার্বিকভাবে পরিবেশ বিপর্যয়ের ফলে অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি ও তাপমাত্রা বৃদ্ধিসহ পরিবেশের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। পাবনার সচেতন মহল পরিবেশ বিপর্যয় এর হাত থেকে রক্ষার জন্য অবিলম্বে অবৈধ ইটভাটাগুলি জরুরী ভিত্তিতে বন্ধের
প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট দাবী জানিয়েছেন।

এদিকে সুজানগর উপজেলার তাঁতীবন্দ ইউনিয়নের কামারদুলিয়া গ্রামের একই স্থানে ৩টি ইট ভাটার একটি উপজেলা প্রশাসন ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে। ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুজিৎ দেবনাথ জানান, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স না থাকায় কেএসবি ব্রিকস্রে কার্যক্রম বন্ধ করেদেওয়া হয়েছে। অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

পাবনা জেলা প্রশাসক মো: জসিম উদ্দিন জানান, লাইসেন্স ছাড়া ইটভাটা চলতে পারে না, অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করে ভাটার মালিকদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান শুরু হয়েছে।