• আজ
  • বুধবার,
  • ২১শে আগস্ট, ২০১৯ ইং
  • |
  • ৬ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ


Text_2

‘পাবনার রায়ে বিচার বিভাগের ধসে পড়া প্রমাণিত হয়েছে’

প্রকাশ: ৮ জুলা, ২০১৯ | রিপোর্ট করেছেন নিউজ ডেস্ক

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, পাবনায় বিএনপি নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলা দিয়ে যে রায় দেয়া হয়েছে এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে বাংলাদেশের বিচার বিভাগ ধসে পড়েছে। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কাঠামোর ভেঙে পড়েছে। আওয়ামী লীগ ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ক্ষমতাকে স্থায়ী করার লক্ষ্যে অত্যন্ত সুচতুরভাবে বিচার বিভাগকে দলীয়করণ করেছে।

সোমবার (৮ জুলাই) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত রায়ে পরিষ্কারভাবে এ কথা বলেছেন যে, বিচার ব্যবস্থা দলীয়করণের শিকার হয়েছে এবং জনগণ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। নিম্ন আদালতে আইন মন্ত্রণালয়ের নিরষ্কুশ প্রভাব নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ন্যায়বিচার তিরোহিত হচ্ছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা বিলুপ্ত হচ্ছে। উচ্চ আদালত এর প্রভাব আমরা দুঃখজনকভাবে দেখতে পাচ্ছি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিচারপতি সিনহাকে বল প্রয়োগের মাধ্যমে অপসারণ-দেশত্যাগে বাধ্য করার ফলে ভীতি সর্বগ্রাসী হয়েছে এবং দলীয় ব্যক্তিদের নিয়োগের কারণে পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। দেশনেত্রীর মামলায় এ বিষয়গুলো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, অতিসম্প্রতি পাবনার ঈশ্বরদীতে ১৯৯৪ সালে তৎকালীন বিরোধী দলের নেতার ট্রেনের উপর হামলা সংক্রান্ত মামলায় নিম্ন আদালতে যে রায় দেয়া হয়েছে, সেখানে বিচার ব্যবস্থার একই চিত্র উঠে এসেছে। এ মামলার রায় ৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ২৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১৩ জনকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের শাস্তি প্রদানের আদেশ সমগ্র জাতিকে হতাশ ও ক্ষুব্ধ করেছে।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ঘটনাগুলোকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে মন্তব্য মির্জা ফখরুল বলেন, ঈশ্বরদীতে ১৯৯৪ সালে সংঘটিত এ হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। একটি রাজনৈতিক দলের প্রায় সকল কর্মকর্তাকে এই ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত করে তিন বছর পর অভিযোগপত্র দিয়ে এতো বছর পর এই আদেশ প্রমাণ করেছে যে এই আদেশ ন্যায়বিচার পরিপন্থী ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, সেলিমা রহমান, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মাহবুবউদ্দিন খোকন, বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাসুদ তালুকদার প্রমুখ।