• আজ
  • বৃহস্পতিবার,
  • ২১শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং
  • |
  • ৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Text_2

পাবনায় সোঁতিজালে মাছ নিধন, রবিশস্যের ফলন নিয়ে শঙ্কা

প্রকাশ: ২৩ অক্টো, ২০১৯ | রিপোর্ট করেছেন বিশেষ প্রতিনিধি, চাটমোহর

পাবনার চাটমোহরে বিভিন্ন নদী ও বিলে অবৈধ সোঁতিজাল দিয়ে চলছে সব আকারের মাছ নিধন। বিলুপ্ত হচ্ছে মাছের বংশ। সোঁতিরজালের বেড়ার কারণে আবাদি জমি থেকে পানি নামছে ধীরে। রসুন ও সরিষার আবাদ পিছিয়ে পড়ায় ফলন নিয়ে শঙ্কিত কৃষক।

সোঁতিজাল দিয়ে মাছ নিধনের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন কিছু জনপ্রতিনিধি ও ক্ষমতাসীন দলের নেতা। ভয়ে এ নিয়ে ‘টু’ শব্দ করার সাহস পাচ্ছেন না এলাকাবাসী। এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে ‘ম্যানেজ’ করেই মাছ নিধনে মেতেছেন সোঁতিজালের সঙ্গে জড়িতরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গুমানী নদীর ধর্মগাছা ব্রীজ, মুনিয়াদীঘি কৃষি কলেজ, ছাওয়ালদহ, চিনাভাতকুর কবরস্থান, কাটানদীর পাইকপাড়া পয়েন্ট, ডেফলচড়া সোঁতিজাল পাতা হয়েছে। রাত-দিন, সব সময় চলছে মাছ নিধন। এ মাছ হাট-বাজারে বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মাছের ব্যাপারীরাও ভীড় করছেন সোঁতিতে। শেষ রাতে বেচা-কেনা চলছে মাছের। বিকালেও একদফা কেনা-বেচা হচ্ছে।
অভিযোগ উঠেছে, সোঁতি জালের কিছু মাছ যাচ্ছে বিষয়টি দেখভালের দায়িত্বে থাকা দপ্তরসহ বিশেষ কিছু পেশাজীবির ঘরে। ‘ঠাণ্ডা’ রাখতেই তাদেরকে মাছ পৌছে দিচ্ছেন সোঁতি জালের সাথে জড়িতরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ধর্মগাছা ব্রীজের অদুরেই গুমানী নদীর তিনভাগ ঘিরে দেওয়া হয়েছে বাঁশ-জালের বেড়া। এক পাশে ফাঁকা রেখে পাতা হয়েছে সোঁতি জাল। এ জালেই আটকা পড়ছে বিভিন্ন প্রজাতির ও আকারের মাছ। তাজা রাখার জন্য জালে জিইয়ে রাখা হচ্ছে মাছ।
এলাকাবাসীর কথায়, সোঁতির নৌকায় জেলেদের দেখা গেলেও পর্দার আড়ালে রয়েছে চিহ্নিত একটা সুবিধাবাদি চক্র। এর মধ্যে রয়েছে চিহ্নিত কয়েকজন জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা।

কৃষকের কথায়, সোঁতিজালের বেড়ার কারণে আবাদি থেকে ধীরে নামছে পানি। আগামি সরিষা ও রসুনের আবাদ পিছিয়ে পড়বে। সরিষা ও রসুনের আবাদ পিছালে বোরো ধানের আবাদও পিছাবে। নাবি আবাদের কারণে এসব ফসলের ফলন কমে যাবে।
নদীপাড়ের বাসিন্দাদের ভাষ্য,সোঁতিজালের বেড়ায় বাধাগ্রস্থ হচ্ছে পানির স্বাভাবিক গতি। বেড়া সংলগ্ন এলাকায় সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র স্রোত। ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে সংলগ্ন বসতবাড়ি ও আবাদি জমি।

অপরদিকে, সোঁতিজাল অপসারণের জন্য অভিযান চালাচ্ছে মৎস্য অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসন। অভিযানের স্থির চিত্র ক্যামেরায় ধারণ করে তোষামদকারী কতিপয় স্থানীয় সংবাদকর্মীর কাছে সরবরাহ করছেন তারা। অভিযানের খবর ঢালাও ভাবে ছাপা হচ্ছে কিছু স্থানীয় পত্রিকায়।

এলাকাবাসীর কথায়, প্রশাসনের এ ধরণের অভিযান লোক দেখানো। অভিযানের সঙ্গে জড়িতরা ঘটনাস্থল ত্যাগের দুই-তিন ঘন্টা পরই জাল মেরামত করে পুরোদমে চলছে মাছ নিধন।

সাধারণ মানুষের ভাষ্য, অভিযানের সময় সোঁতিজালের দুই-একটা বাঁশ কেটে দেওয়া হচ্ছে। জালের কিছু অংশ কেটে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু জাল-বাঁশের পুরো বেড়া অপসারণ করা হচ্ছে না। তাছাড়া সোঁতি জালের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনছে না প্রশাসন। এলাকাবাসীর খটকা- সোঁতিজালের সঙ্গে প্রশাসনের ঘাপলা এখানেই।

সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানান, সোঁতিজাল দিয়ে মাছ শিকার মৎস্য আইনে নিষিদ্ধ। এর শাস্তি সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার টাকা জরিমান বা দুই বছরের জেল। বলনে, সোঁতি দিয়ে মাছ ধরা চলনবিল এলাকার ট্রাডিশন। প্রতিবছরই এ ঘটনা ঘটে। আমরা অভিযান অব্যাহত রেখেছি। সোঁতিজালের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে কোন নমনীয়তা নেই।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসান রশীদ হোসাইনি জানাচ্ছেন, সোঁতির কারণে আবাদি জমি থেকে পানি ধীরে নামছে। এতে সরিষা ও রসুনের আবাদ পিছিয়ে যাবে। এর ফলে পিছাবে বোরো ধানের আবাদ। কমে যাবে ফলন, ক্ষতিগ্রস্থ হবেন কৃষক। উপজেলার সমন্বয় সভায় সোঁতিজাল অপসারণের জন্য সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে বলেও জানালেন হোসাইনী।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অসীম কুমার সরকার বলছেন, এসিল্যাণ্ডকে বলা হয়েছে। সোঁতি জালের খবর পেলেই অভিযান চালানো হবে।