• আজ
  • মঙ্গলবার,
  • ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং
  • |
  • ২রা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Text_2

পাটে নয়, পাটখড়িতে লাভ গুনছেন চাষীরা

প্রকাশ: ৩১ আগ, ২০১৯ | রিপোর্ট করেছেন মহিদুল খান, চাটমোহর

“দুই বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করছিলাম। পাট পাইছি পৌনে এগারো মণ। সেই পাট হাটে বেচছি ১৯হাজার ৭৮০টাকায়। দাম পাইছি মণ প্রতি ১৮শ’ ৪০ টাকা। দুই বিঘায় আবাদ করতি খরচ হইছিল ১৯হাজার ২৪০ টাকা। নিজের মজুরি বাদে লাভ হইছে দুই বিঘায় ৫শ’৪০ টাকা। নিজের মজুরি ধরলে এক টাকাও লাভ নেই। বরং লোকসান।“

এ বছর পাটের আবাদে লাভ কেমন, জানতে চাইলে আঞ্চলিক ভাষায় এ ভাবেই  নিকাশ দিচ্ছিলেন পাটচাষী জয়নাল চৌধুরি। জয়নাল চৌধুরির বাড়ি উপজেলার জাবরকোল গ্রামে।

দুই বিঘা জমিতে সোলা (পাটখড়ি) হইছে আনুমানিক ২১শ’ থেকে ২২শ ৫০ হাতা (আটি)।  একশ’ হাতা সোলার বর্তমান বাজার দর ১০০ থেকে ১৩০ টাকা। সবগুলো সোলা বেচা গেলে পাওয়া যাবে ২হাজার ১শ থেকে ২হাজার ৯২৫টাকা।  ৬০/৮০টি সোলা একত্রে বেঁধে করা হয় একটি হাতা। বলতে গেলে পাট আবাদে  এখন সোলাই লাভ, বলছিলেন জয়নাল।

জয়নালের কথায়, “জমি চাষের জন্য হ্যারো (চাষযন্ত্র)’র মালিককে দিতে হইছে ১৬শ’ টাকা। হাজার ৪০টাকায় কিনেছিলাম বীজ। পাট কাটতি লাগছিল  ৭হাজার ৬০০ টাকা। পাট কাটছিল ১৯জন শ্রমিক। পাট ধোয়ায় খরচ পড়েছে ৯হাজার টাকা। ১৮জন শ্রমিক করছিল ধোয়ার কাজ। সব মিলিয়ে জমি থেকে পাট ঘরে তুলতি খরচ পড়েছিল ১৯হাজার ২৪০টাকা।“ শুধু জয়নলালই নয়, নায্য দাম না পেয়ে উপজেলার পাটচাষীদের  চোখে মুখে ফুটে উঠেছে হতাশার ছাপ।

সরেজমিনে নতুনবাজার হাটে দেখা গেল, নতুন পাটের বেচা-কেনা চলছে। পাটের বেশ আমদানি ছিল হাটে। পাট কিনছিলেন পাটের ব্যবসায়ী মজনু হোসেন। বলছিলেন, বর্তমানে ১৫শ’ ৫০ থেকে ১৭শ’ টাকা মণ দরে পাটের কেনা-বেচা চলছে। প্রথম যখন পাট হাটে উঠেছিল, তখন কেউ কেউ ২২শ’ টাকা পর্যন্ত দাম পেয়েছিল। শুরুতে বাজার দর সর্বনিম্ন ছিল ১৮শ’ টাকা। এখন দাম কম।  মজনুর বাড়ি উপজেলার শাহপুর গ্রামে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুত্র বলছে, এ বছর উপজেলায় ৭হাজার ২শ’ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছিল। এর মধ্যে তোষা ও মেস্তা পাট ছিল। পাট কাটা শেষ। এ বছর পাটের ফলন  হয়েছে সর্বনিম্ন ৫মণ, উর্ধ্বে ১১মণ।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাসান রশীদ হোসাইনি বলছেন, এ বছর পাটের আশানুরুপ ফলন হয়েছে। কিন্তু নায্য দাম পাচ্ছেন না পাটচাষীরা। ভালো দাম না পেলে কৃষক এ আবাদ থেকে সরে দাড়াবেন বলেও মন্তব্য করেন হোসাইনী।