• আজ
  • বুধবার,
  • ২১শে আগস্ট, ২০১৯ ইং
  • |
  • ৬ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ


Text_2

নতুন জাতের সোনালী আঁশে স্বপ্ন বুনেছেন ১০চাষী

প্রকাশ: ১৫ জুলা, ২০১৯ | রিপোর্ট করেছেন মহিদুল খান, চাটমোহর

ফলন হবে বিঘায় ১০মণ হারে।  বয়স ১০০ দিন হলেই জমি থেকে কাটা যাবে। কিন্তু তোষা-মেস্তা পাটের মতো আবাদের খরচ একই। এছাড়া কাটার পর আবাদ করা যাবে রোপা আমন ধান। পাটের নতুন জাত রবি-১’র সুবিধা এটা।
পাবনার চাটমোহরের ১০জন কৃষককে দিয়ে এই নতুন জাতের পাটের আবাদ করিয়েছে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। পরীক্ষামুলক এ আবাদের ফলন নিয়ে খুব আশাবাদি খোদ কৃষি কর্মকর্তাসহ চাষীরা।  কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুত্র নতুন জাতের পাটের এসব তথ্য জানিয়েছেন।
১০জন কৃষকের একজন আব্দুল জলিল। জগতলা গ্রামের বাসিন্দা তিনি। বলছিলেন- বাবা, পাটের গাছ তোষা-মেস্তা পাটের চেয়ে বড় হইছে (হয়েছে)। মোটাও বেশি। গোড়ার দিক থেকে মাথার দিকে ক্রমশ কিছুটা চিকন। আশা করতিছি (করছি) ১০মণ হারে ফলন পাবো। তিনি জানান, তোষা-মেস্তা পাটে ফলন হয় গড়ে ৭/৮মণ হারে। নতুন জাতের পাটের  আবাদের খরচ তোষা-মেস্তা পাটের মতোই।
অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক ও প্রবীণ চাষী আব্দুল জলিলের ভাষ্য, পাটের খরচ জমিতে হয় সাড়ে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা। এর মধ্য চাষ, বীজ, সার, কীটনাশক আর পরিচর্যা থাকে। কিন্তু পাট কাটতে আর ধুয়ে ঘরে তুলতেই খরচ হয় পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা।  জানান, কামলার (শ্রমিক) যে দাম আর বাজারে পাটের যে দাম পাওয়া যায়, তাতে কৃষকের খুব একটা পুষায় না। কিন্তু কৃষকের করার কি আছে? খাওয়া-পরা চলে আরকি!
চাটমোহর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সুত্র বলছে, ১০জন চাষীর প্রত্যেককে ৪শ’ গ্রাম হারে বীজ দেওয়া হয়েছে। ১০শতক জমিতে আবাদের জন্য এ বরাদ্দ। সুত্র আরও জানায়, বেশি সুবিধা হলো জমি পতিত থাকে না। আশা করছি, কৃষক এ জাতের পাট আবাদে লাভবান হবেন বেশি।
চাটমোহর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হাসান রশীদ হোসাইনী বলছেন, প্রদর্শনী হিসেবে ১০জন কৃষককে দিয়ে এ পাটের আবাদ করিয়েছি।  পাট গবেষণা ইন্সিটিটউট জাতটি উদ্ভাবন করেছেন। কাটার পর ফলন ভালো পেলে, পরবর্তীতে জাতটি চাটমোহরের পাটচাষীদের মধ্যে জনপ্রিয়তা লাভ করবে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে পাটের ফলন খুব ভালো হবে, আশা করা যায়। তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন, দাম না পেলে কৃষক পাট চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন।