• আজ
  • বৃহস্পতিবার,
  • ২১শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং
  • |
  • ৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Text_2

ধ্বংসের পথে পাবনার ঐতিহ্যবাহী তাড়াশ ভবন

প্রকাশ: ১১ জুন, ২০১৮ | রিপোর্ট করেছেন শহর সংবাদদাতা

সংস্কার আর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধ্বংস হতে চলেছে পাবনার অন্যতম পুরাকীর্তি তাড়াশ ভবন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি না থাকায় ভবনটি এখন মাদকসেবীদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। গড়ে উঠেছে সিএনজি অটোরিকশা স্ট্যান্ড। ইতিহাস আর জাতীয় ঐতিহ্যের এ নিদর্শনটি সংরক্ষণে এখনই উদ্যোগ না নিলে অচিরেই তা ধ্বংস হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।

অষ্টাদশ শতাব্দীতে পাবনার সবচেয়ে বড় জমিদার রায় বাহাদুর বনমালী রায়ের স্মৃতির সঙ্গে জড়িত হয়ে আছে এ ভবনটি। জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে নান্দনিকতা ও স্থাপত্যের এ অনন্য নিদর্শনটি ‘তাড়াশের রাজবাড়ী’ নামেও পরিচিত। ব্রিটিশ শাসনামলে ইউরোপীয় রেনেসাঁ রীতিতে নির্মিত এ জমিদার বাড়িটি এ অঞ্চলের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের স্বাক্ষর বহন করছে।

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ফখরুল ইসলাম জানান, পাবনার সবচেয়ে নামকরা এবং পুরনো হলো তাড়াশের এ জমিদার বাড়ি। রায়বংশের এ জমিদারের পূর্বপুরুষ হলেন বাসুদেব রায়চৌধুরী। তিনি নবাব মুর্শিদকুলি খানের রাজস্ব বিভাগে চাকরি করে এ বাড়িটি প্রতিষ্ঠা করেন। মুর্শিদকুলি খানই বাসুদেবকে ‘রায়চৌধুরী’ খেতাবে ভূষিত করেন। পাবনা এডওয়ার্ড কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার পেছনে তার অবদান ছিল অনস্বীকার্য। শিক্ষানুরাগী দানবীর এ জমিদার প্রজাহিতৈষী বলেও সুখ্যাত ছিলেন।

সুদৃশ্য তোরণবিশিষ্ট আয়তাকার এ ভবনটিকে ১৯৯৮ সালে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণা করে প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তর। তবে এ ঘোষণার পর ১৮ বছর পার হলেও সংস্কার ও সংরক্ষণে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ফলে ভবনটি তার সৌন্দর্য হারিয়ে এখন জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। সীমানা প্রাচীর ভেঙে অরক্ষিত হয়ে পড়েছে বাড়ির পুরো এলাকা। মাদকসেবীদের অবাধ বিচরণে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ। তার ওপর স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় বাড়িটির প্রাঙ্গণে গড়ে উঠেছে অবৈধ সিএনজি স্ট্যান্ড।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির উঠোনজুড়ে প্রায় ৩০টির মতো অটোরিকশা রাখা আছে। বারান্দায় মাদক সেবনে ব্যস্ত কয়েকজন যুবক। কারুকার্যখচিত ভবনের অনেক জায়গায় ভেঙে গেছে নকশা, খসে পড়েছে পলেস্তরা। প্রায় প্রতিটি জানালার কাচই ভাঙা। দেয়ালগুলো লোনা ও শ্যাওলার কারণে মলিন।

কয়েকজন সিএনজি অটোরিকশা চালকের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, শহরে যানজট কমানোর স্বার্থে এ স্থানে সিএনজি স্ট্যান্ড গড়ে তোলা হয়েছে। এক্ষেত্রে কোনো অনুমোদন না থাকলেও প্রশাসন কখনো বাধা দেয়নি বলে জানান তারা। তবে একজন জানান, স্থানীয় প্রভাবশালীরাই এ সিএনজি স্ট্যান্ড গড়ে তুলেছেন। তারাই প্রশাসনকে সামাল দেন। ভবনটির নিরাপত্তার দায়িত্বে দুজন প্রহরী থাকলেও প্রভাবশালীদের কাছে তারা অসহায় বলে জানান।

স্থানীয়রা পাবনার এ মূল্যবান ঐতিহ্যের সংরক্ষণে সংশ্লিষ্টদের দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানান। তারা জানান, সঠিক পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে এ জমিদার বাড়িটিকে গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত করা সম্ভব।

এ বিষয়ে প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তর বগুড়ার আঞ্চলিক পরিচালক নাহিদ সুলতানা জানান, ভবনটি সংস্কারে অর্থ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে। তবে অবৈধ সিএনজি স্ট্যান্ড গড়ে ওঠার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।