• আজ
  • বৃহস্পতিবার,
  • ২১শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং
  • |
  • ৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Text_2

চাটমোহরে ক্লিনিকে সিজারের ২৪ঘন্টা পর প্রসূতির মৃত্যু

প্রকাশ: ৩ নভে, ২০১৯ | রিপোর্ট করেছেন বিশেষ প্রতিনিধি, চাটমোহর

দ্বিতীয় সন্তান প্রসব করার জ্ন্য সততা ক্লিনিক এণ্ড ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে ভর্তি হয়েছিলেন আশা রানী দাস।  শুক্রবার (১ নভেম্বর)  অস্ত্রপ্রচারের (সিজার) মাধ্যমে ভূমিষ্ঠ হয় ফুটফুটে শিশু কন্যা।  পরের দিন শনিবার (২ নভেম্বর) সন্ধার পরে মারা যান তিনি।  হৃদয়স্পর্শী এ ঘটনা ঘটলো পাবনার চাটমোহরে।

অভিযোগ উঠেছে, তাৎক্ষনিক চিকিৎসার অভাব আর অবহেলার কারণেই মারা গেছে আশা রানী দাস। ঘটনার পর অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ক্লিনিকটিতে পাহারা বসায় পুলিশ।

জানা গেছে, নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক ডলি খাতুন অস্ত্রপ্রচার করেন। চুক্তিভিত্তিক পারিশ্রমিকে তিনি কাজটি করেন। মা ও নবজাতক তখন ভালোই ছিল।

শনিবার বিকাল ৪টা নাগাদ হঠাৎ অসুস্থ্যবোধ করেন আশা রানী দাস। ক্লিনিকটিতে তখন সার্বক্ষনিক আবাসিক চিকিৎসক ছিলেন না।  ক্লিনিকের মালিকও বাড়িতে ছিলেন। অসুস্থ হওয়ার খবর পেয়ে ক্লিনিকে আসেন ক্লিনিকের মালিক ও এনেস্থেসিয়া চিকিৎসক। অবস্থা নিয়ন্ত্রণের বাইরে আঁচ করতে পেরে প্রসূতিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার জন্য আশার স্বজনদের পরামর্শ দিয়েছিলেন তারা। অভিযোগ, এই ক্লিনিকে এমবিবিএস পাশ করা সার্বক্ষনিক আবাসিক চিকিৎসক নেই।

সংশ্লিষ্টদের কথায়, অসুস্থ্যবোধ করার প্রায় সাড়ে চার ঘন্টার পর মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়েন আশা রানী দাস। এরপরই উত্তেজিত হয়ে পড়েন তার স্বজনেরা। ক্লিনিকের আসবাবে লাথি ও দুই একটা চেয়ার ছুড়ে ফেলার ঘটনাও ঘটে।  সহকারি পুলিশ সুপার (চাটমোহর সার্কেল) সজীব শাহরিন ও ওসি শেখ নাসীর উদ্দিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

আশা রানী দাস চৌধুরিপাড়া মহল্লার বাসিন্দা ভবেশ কুমার দাসের একমাত্র মেয়ে। ঘরে তার স্বামীসহ আরও এক ছেলে রয়েছেন।

সততা ক্লিনিক এণ্ড ডায়াগনোস্টিক সেন্টারের মালিক স্বপন কুমার বলছেন, আমাদের কোন দায়িত্ব অবহেলা ছিল না। রোগী যখন অসুস্থ হয়, তখন আমি ক্লিনিকে ছিলাম না। খবর পাওয়া মাত্র ছুটে আসি। বলেছিলাম রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিতে। কিন্তু সময় দিল না। চলে গেল স্বর্গে।

চাটমোহর থানার ওসি শেখ নাসীর উদ্দিন জানাচ্ছেন, মৃত্যুর পর ক্লিনিকে উত্তেজনাকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবেশ শান্ত করে পুলিশ। প্রসুতির স্বামী ও বাবা মামলা করবেন না বলে জানিয়েছেন। তাই লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে, একমাত্র মেয়েকে হারিয়ে ভবেশ দম্পতি শোকে পাথর হয়েছেন। চোখ লাল আর ফুলে গেছে একমাত্র দাদা জীবন কুমার দাসের। দুই সন্তানকে মানুষ করা নিয়ে আকাশ-কসুম ভাবছেন আশার স্বামী। স্বজনসহ পড়শিরা স্মৃতি হাতড়িয়ে চোখ মুছেছেন।

অপরদিকে, ঘটনা ধামাচাপা দিতে দৌড়-ঝাঁপ শুরু করেছেন স্বপন কুমার দাস। সুবিধাবাদি একটা চক্র আশার মৃত্যুকে পুঁজি করে স্বপনের কাছে থেকে অবৈধ আয়ের চেষ্টা করতে দেখা গেছে।  আইন শৃঙ্খলাবাহিনী বা আইনি সেবা প্রত্যাশী না হলেও চক্রটির থানায় নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে। সোমবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে স্থানীয় মহাশ্মশানে আশা রানী দাসের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। সাধারণ মানুষ ক্লিনিকটি বন্ধের দাবি জানিয়েছে।