• আজ
  • বৃহস্পতিবার,
  • ২১শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং
  • |
  • ৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Text_2

চাকরির বিনিময়ে জমি, পাঁচ ঘণ্টা দেরিতে হলো নিয়োগ পরীক্ষা

প্রকাশ: ৩০ অক্টো, ২০১৯ | রিপোর্ট করেছেন ঈশ্বরদী সংবাদদাতা

চাকরির বিনিময়ে জমি কিনে দেয়ার শর্তের বিষয়টি পুরো ঈশ্বরদী জুরে আলোচিত-সমালোচিত হলেও অবশেষে ৫ ঘন্টা দেরিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী পদের আলোচিত নিয়োগ পরীক্ষা।

বুধবার সকাল ১০টায় ঈশ্বরদীর পাকুড়িয়া স্কুল এন্ড কলেজের স্কুল শাখার দুইজন চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী পদে চাকরীর লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও তা ৫ ঘন্টা দেরিতে বিকাল ৩টায় অনুষ্ঠিত হয়।

দেরির কারণ হিসেবে স্কুল কর্তৃপক্ষ জানান, নিয়োগ কমিটির সদস্য ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ সেলিম আক্তারের চাচা শ্বশুর মারা যাওয়ায় তিনি সেখানে যান। জানাযা দিয়ে সেখান থেকে এসে পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করেন তিনি। এজন্য ৫ ঘন্টা দেরি হলেও গর্ভনিং বডির সভাপতি, প্রধান শিক্ষক, ডিজির প্রতিনিধিসহ ১৩ জন চাকরী প্রার্থী তার জন্য ৫ ঘন্টা ধরে অপেক্ষা করেন।

এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে ঈশ্বরদী প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে পাকুড়িয়া স্কুল এন্ড কলেজ গর্ভনিং বডির সভাপতি মোঃ জিল্লুর রহমান অকপটেই বলে ফেলেন, যার যার চাকুরি চুড়ান্ত হবে তার কাছ থেকে কোন নগদ টাকা নেয়া হবে না, তারা দুইজন স্কুলের ভবন নির্মাণের জন্য জমি কিনে দিবেন। এই বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফলাও করে সংবাদ প্রকাশিত হলে ‘টক অব দ্যা টাউনে’ পরিণত হয়। সব ধরনের আলোচনা-সমালোচনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিয়োগ পরীক্ষার ব্যাপারে অনড় থাকেন স্কুল কর্তৃপক্ষ ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সেলিম আক্তার।

নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে জমি দেয়ার শর্ত এবং পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সেলিম আক্তার বলেন, নিয়োগ পরীক্ষা স্বচ্ছতার মাধ্যমে সম্পন্ন করে চুড়ান্ত প্রার্থীদের নিয়োগের ব্যাপারে কমিটির কাছে আমরা সুপারিশ করবো। সেক্ষেত্রে কেউ জমি কিনে দিলে আমার কি করার আছে?

নিয়োগ নিয়ে এত আলোচনা-সমালোচনা এবং পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের বিষয়ে তিনি বলেন, নিয়োগ পরীক্ষা না হলে আমাদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হবে।

যোগাযোগ করা হলে ঈশ্বরদী উপজেলার নবাগত নির্বাহী অফিসার মোঃ শিহাব রায়হান বলেন, এসব বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার তিনি নিয়োগ কমিটির সদস্য তার সাথে যোগাযোগ করেন। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি নতুন এসেছি, খোঁজ নিয়ে পরে জানাবো।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে স্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহমান বলেন, মেটামুটি ভাল ভাবেই নিয়োগ পরীক্ষা শেষ হয়েছে। এখনও প্রার্থী চুড়ান্ত বাছাই করা হয়নি কাজ চলছে বলেই মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন তিনি।