• আজ
  • মঙ্গলবার,
  • ১৭ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং
  • |
  • ২রা আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

Text_2

কবিরাজের গুড় পড়া খেয়ে ইমামের মৃত্যু

প্রকাশ: ২৪ আগ, ২০১৯ | রিপোর্ট করেছেন

পাবনার সুজানগর উপজেলায় বাসার মালিকের হারানো টাকা উদ্ধারে কবিরাজী গুড় পড়া খেয়ে মসজিদের ইমামের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২৪ আগস্ট) সকালে উপজেলা সদরের ভবানীপুরের এলাকায় এঘটনা ঘটে।

ইমাম আব্দুর রাজ্জাক ওই উপজেলার চর গোবিন্দপুর গ্রামের ছকিরউদ্দিনের ছেলে। সে সুজানগর পৌর এলাকার ভবানীপুরের মোহাম্মদ আলীর ছেলে মামুনের বাসায় ভাড়া থাকতো এবং স্থানীয় এক মসজিদে ইমামতি করতেন। এ বিষয়ে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে সুজানগর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

সুজানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল আলম বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ৪/৫দিন পূর্বে ইমামের বাড়ির মালিক আব্দুল্লাহ আল মামুনের তিন লক্ষাধিক টাকা খোয়া যায়। এরপর তারা বিভিন্ন লোকজনকে সন্দেহ করার পাশাপাশি বাড়ির ভাড়াটিয়া ওই ইমামকেও সন্দেহের তালিকায় রাখেন। টাকা ফিরে না পাওয়ায় গেল শুক্রবার বিকেলে বাড়ির মালিক মামুন একজন কবিরাজকে ডেকে এনে ইমামকে গুড় পড়া খাওয়ায়। এরপর রাতের দিকে ইমাম আব্দুর রাজ্জাকের ডায়রিয়া শুরু হলে পরিবারের লোকজন সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে মাঝ রাতে তার অবস্থার উন্নতি হলেও শনিবার সকালে সে মারা য়ায়।

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি পরিষ্কার বুঝা যাচ্ছে না আসলে কিভাবে মারা গেছেন, আমরা মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছি। রিপোর্ট পেলেই প্রকৃত বিষযটি বুঝা যাবে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে ইমাম আব্দুর রাজ্জাক এর মামা আমিরুল ইসলাম জানান, মামুন টাকা না পেয়ে সন্দেহ করা ব্যক্তিদের মানসিক ভাবে নির্যাতন শুরু করে। শুক্রবার বিকেলে বাড়িতে কবিরাজ এনে মোট ১৩ জনকে গুড় পড়া খাওয়ানো হয়। কবিরাজের ভাষ্যমতে এক ঘন্টার ভেতর রেজাল্ট পাওয়ার কথা, এক ঘন্টায় রেজাল্ট না পেয়ে এদের ভেতর কেউ টাকা নেয়নি বলে কবিরাজ ওই বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। পরে রাতে আমার ভাগ্নে অসুস্থ হলে আমরা হাসপাতালে ভর্তি করি। শনিবার সকালে সে মারা যায়।

সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক সেলিম মোর্শেদ বলেন, পাতলা পায়খানা ও বমি হওয়ায় রোগীটিকে আমরা চিকিৎসা সেবা দেই। মাঝ রাতে রোগীর অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও পরে সে মারা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে ইমাম মানুষ বদনাম আর মানসিক চাপে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যেতে পারেন। তবে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ছাড়া নিশ্চিত হওয়া কষ্টের বলেও জানান তিনি।

ইমাম আব্দুর রাজ্জাক এর স্ত্রী দিলরুবা সাথী বলেন, মানসিক নির্যাতনের ফলেই তার স্বামী মারা গেছেন। কান্না জড়িত কন্ঠে তার স্বামীকে মেরে ফেলার ঘটনায় যারা জড়িত তাদের বিচার দাবিও করেন তিনি।

বাড়ির মালিক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এমন গুড় পড়া অনেকেই খেয়েছেন, তাদের কিছু হলো না। অপরদিকে ওই ইমামকে মানুষিক নির্যাতনের বিষয়টিও তিনি অস্বীকার করেন। তবে তিনি ওই কবিরাজের নাম ঠিকানা ও মোবাইল নং কিছুই দিতে রাজী হয়নি এবং সংবাদ না করার জন্যে অসুদোপায় অবলম্বনের চেষ্টা করেন।