• আজ
  • শনিবার,
  • ১৯শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং
  • |
  • ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Text_2

‘আমরা শ্যাষ হয়ে যাবনে’

প্রকাশ: ২৯ জুলা, ২০১৯ | রিপোর্ট করেছেন মহিদুল খান,চাটমোহর

‘কি কবো (বলবো), হাত-পা শুকায়ে আসতিছে  চিন্তায়। নিজে খাবো কি, গরুক (গাভী) খাওয়াবো কি, লোন শোধ করবো কোন (কোথায়) থেকে? আমরা (খামরাীরা) শ্যাষ (শেষ) হয়ে যাবনে (যাব)। কথাগুলো বলছিলেন পাবনার চাটমোহরের গরুখামারী মামুন হোসেন।

ব্র্যাক ডেইরি চিলিং সেন্টারে দুধ সরবরাহ করতে না পারায় কথাগুলো বলেন তিনি।  ব্র্যাক ডেইরি চিলিং সেন্টার দুধ সংগ্রহকারী একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। রবিবার (২৮ জুলাই) বিকাল থেকে ব্র্যাক ডেইরি চিলিং সেন্টার, প্রাণ ডেইরি চিলিং সেন্টারসহ  উপজেলাস্থ সব ডেইরি চিলিং সেন্টার স্থানীয় খামারীদের কাছে থেকে দুধ সংগ্রহ বন্ধ রেখেছে।

পাস্তুরিত দুধ উৎপাদন, ক্রয়- বিক্রয়ের উপর ৫সপ্তাহের স্থগিতাদেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালত। এরপর থেকেই উপজেলার ডেইরি চিলিং সেন্টারগুলো দুধ সংগ্রহ বন্ধ করে দেয়। এর  প্রভাব পড়েছে স্থানীয় বাজারে। একদিনের ব্যবধানে দুধের দাম লিটারে কমেছে ৩০-৩৫টাকা। সোমবার (২৮ জুলাই)সকালে চাটমোহর নতুনবাজার ও পুরাতন বাজারে দুধ বিক্রি হয়েছে লিটার প্রতি ১৫-২০টাকা। একদিন আগেও দাম ছিল ৫০-৫৫টাকা লিটার।

পৈলানপুর গ্রামের বাসিন্দা মামুন  জানান, তার খামারে গবাদিপশু আছে মোট ২২টি। এর মধ্যে গাভী রয়েছে ১০টি। ৭টি গাভী বর্তমানে দুধ দিচ্ছে। দৈনিক গড়ে ৭০কেজি দুধ দেয় গাভীগুলো। ব্র্যাক ডেইরি চিলিং সেন্টার থেকে সপ্তাহে ৪২০লিটার দুধের বিল (দাম) তোলেন ১৫ হাজার ১২০ টাকা। ৩৬টাকা দরে দুধ সরবরাহ করেন ওই প্রতিষ্ঠানে।

তিনি জানান, ৭০লিটার দুধের পেছেন খরচ হয় ২হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ২৫০টাকা। ঘাস ও খড়, খৈল-ভূসি কেনা, গরু পরিচর্যা ও দুধ পরিহবন বাবদ এ টাকা খরচ হয়। ৪২০ লিটার দুধে খরচ হয় ১৩ হাজার ১৯৯টাকা।  লাভের টাকায় চলে সংসারের খরচ।

মামুনের ভাষ্যমতে, খামারের জন্য তিনি ব্র্যাকের কাছে থেকে ঋণ নিয়েছেন ৩লাখ ৫০হাজার টাকা। মাসে তাকে ২২হাজার টাকার কিস্তি দিতে হয় ঋণ পরিশোধের জন্য। দুধ বিক্রি থেকেই আসতো এ টাকা।

শুধু মামুনই নয়,  দুধের বাজারে দামের ধস নামায় ঈদের আগে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন উপজেলার গরুখামারীরা।   বিরাজ করছে চাপা ক্ষোভ। একাধিক খামারী বলছেন, ডেইরি চিলিং সেন্টারগুলো দুধ সংগ্রহ ফের শুরু না করলে আন্দোলনে নামবেন তারা।

উপজেলায় খামারির সংখ্যা ৩২৮জন। এদের খামারে ২৫হাজারের বেশি গাভী রয়েছে। প্রতিদিন ৬০হাজার লিটারের বেশি দুধ পাওয়া যায় এ সব গাভী থেকে।  এর মধ্যে  খামারীদের কাছে থেকে প্রাণ ৩৫হাজার লিটার,  আড়ং ১৭হাজার লিটার, মিল্কভিটা ৫৭০লিটার দুধ দৈনিক সংগ্রহ করে। স্থানীয় ফারুক ডেইরি হার্ব  ও স্থানীয় একজন ব্যক্তি  ৩ হাজার লিটার দুধ সংগ্রহ করেন। বার্ষিক ৪৪হাজার মেট্রিকটন দুধ  পাওয়া যায় এসব খামার থেকে। এ খতিয়ান চাটমোহর উপজেলা প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের। এছাড়া স্থানীয় বাসিন্দারা ও মিষ্টিদ্রব্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও গড়ে দৈনিক ৪হাজার লিটার দুধ কিনে থাকেন খামারীদের কাছে থেকে।

ব্র্যাক ডেইরি চিলিং সেন্টার, পৈলানপুর শাখার ম্যানেজার শহিদুল ইসলাম বলেন, কি কারণে, কর্তৃপক্ষের নির্দেশ দুধ সংগ্রহ বন্ধ রাখা হয়েছে। চাটমোহর উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা মহির উদ্দিন বলছিলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ। এখানে আমাদের কিছুই করার নেই। সবারই উচিত খামারীদের সঙ্গে থাকা।

তিনি জানান, এক লিটার দুধ উৎপাদনে বর্তমান বাজার খরচ ২০টাকা। অথচ বাজারে আজকে (২৯ জুলাই) দুধ বিক্রি হয়েছে ২০টাকা।  খামারীরা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন।