• আজ
  • বৃহস্পতিবার,
  • ২১শে নভেম্বর, ২০১৯ ইং
  • |
  • ৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ
Text_2

আন্দোলনে উত্তাল পাবনা প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ: ২৮ অক্টো, ২০১৯ | রিপোর্ট করেছেন

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে চাকরি প্রার্থী যুবকের ঘুষের টাকা ফেরত চাওয়ার অডিও ফাঁস হওয়ার ঘটনায় ৪ দফা দাবিতে আন্দোলন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়েল শিক্ষার্থীরা।

ওই অডিও নিয়ে ফেসবুকে মন্তব্য করায় তিন শিক্ষককে শোকজ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শিক্ষকদের বিরুদ্ধে করা সেই শোকজ প্রত্যাহারের দাবিসহ চার দফা দাবিতে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে শিক্ষার্থীরা।

সোমবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে ক্যাম্পাস চত্বর প্রদক্ষিণ করে স্বাধীনতা চত্বরে সমবেত হয়ে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করেন শিক্ষার্থীরা। পরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ।

শিক্ষার্থীদের ৪ দফার মধ্যে রয়েছে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে দেয়া শোকজ নোটিস প্রত্যাহার, ক্যাম্পাসে প্রশাসনিক নিরাপত্তার দুর্বল হওয়ার কারণে প্রক্টরিয়াল বডির ও ছাত্র উপদেষ্টার পদত্যাগ, ভিসির স্যারের সার্বক্ষণিক ক্যাম্পাসে অবস্থান ও ফাঁসকৃত অডিও তদন্ত করা, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের ওপর বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্তক্ষেপ না করা।

শোকজ নোটিস পাওয়া শিক্ষকেরা হলেন- অর্থিনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. ইয়াহিয়া ব্যাপারী, ব্যবসায়ী প্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. কামাল হোসেন ও নগর ও অঞ্জল পরিকল্পনা বিভাগের প্রভাষক মো. কামরুল হাসান।

শিক্ষার্থীরা জানান, গত বৃহস্পতিবার ইতিহাস বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে ভিসির কাছে চাকরিপ্রার্থী যুবকের ঘুষের টাকা ফেরত চাওয়ার অডিও ফাঁস হয়। সে ঘটনায় তিনজন শিক্ষক ফেসবুকে মন্তব্য করার কারণে তাদেরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেই শোকজ নোটিশ প্রত্যাহারসহ ৪ দফা দাবি জানান শিক্ষার্থীরা। এসব দাবি মানা না হলে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া এবং ক্যাম্পাসে সকল বিভাগের পরিক্ষা ও ক্লাস বর্জনের ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা।

সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে কথা বলেন পাবিপ্রবির ছাত্রলীগের সভাপতি মাহামুদ চৌধুরী আসিফ। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে ব্যাপক কানাঘুষা চলছে। ভিসি স্যার এবং চাকরিপ্রার্থীর মোবাইল ফোনের কথোপোকথনের অডিও ভাইরাল হয়েছে। এই ঘটনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টির নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি করে এর সঠিক সমাধান না করে উপর্যুপরি তিন শিক্ষককে ফেসবুকে লেখার জন্য কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছে। এই বিষয় নিয়ে সাধারন শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি এই বিষয়টির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্মানহানি হয়েছে। দায়িত্বরত প্রশানিক কর্মকর্তারা সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের নিরাপত্তা দিতে পারেননি। তবে কারও মতপ্রকাশে বাধা প্রদান করা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ না। সাধারণ শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের সাথে আমরা একত্বতা প্রকাশ করেছি। শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে যদি কোনও ধরনরে বাণিজ্য হয়ে থাকে তবে এর সঠিক তদন্ত করে দোষিদের বিচার করতে হবে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা মো. মাহামদুল হাসান বলেন, ‘ছাত্রদের সাথে আমরা কথা বলেছি। তারা কি কারণে আন্দোলন করছে- সেটি তারা নিজেরাই ভালোভাবে জানে না। বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আমাদের কাছে কোনও ধরনের দাবি না এনে তারা প্রশানিক ভবনের সামনে বিক্ষোভ করছে।’

পাবিপ্রবির প্রক্টর ড. প্রীতম কুমার দাস বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে যে অডিও ভাইরাল হয়েছে সেটি ষড়যন্ত্রভাবে করা হয়েছে। আর একজন সম্মানিত ভাইস-চ্যান্সেলরে বিরুদ্ধে অশোভনীয়ে মন্তব্য করার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছে। আর এই মিথ্যা ষড়যন্ত্রমূলক অডিও ফেসবুকে ভাইরাল করার জন্য আমরা পাবনা সদর থানাতে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।’

সাধারণ শিক্ষার্থীরা অযোক্তিক বিষয় নিয়ে আন্দোলন করছে। ৪ দফা নিয়ে এখনও শিক্ষার্থীরা তাদের কাছে কোন ধরনের লিখিত দেয়নি বলেও জানান ড. প্রীতম কুমার দাস।