• আজ
  • বুধবার,
  • ২১শে আগস্ট, ২০১৯ ইং
  • |
  • ৬ই ভাদ্র, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ


Text_2

অনিয়ম বেসরকারি চিকিৎসাসেবায়, ক্ষতিগ্রস্থ রোগীরা

প্রকাশ: ১০ জুলা, ২০১৯ | রিপোর্ট করেছেন মহিদুল খান, চাটমোহর

নানান অনিয়ম আর স্বেচ্ছাচারিতার মধ্য দিয়ে চলছে পাবনার চাটমোহরের বেসরকারি চিকিৎসা সেবা। ফলে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হলেও কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছেন না রোগী ও তার স্বজনেরা। বিষয়টি দেখভালের দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষের নির্দেশনাকেও ‘থোরাই কেয়ার’ করছেন এ সেবার সাথে জড়িত ব্যক্তিরা।
সংশ্লিষ্ট সুত্র জানাচ্ছেন, উপজেলায় ১২টি প্রতিষ্ঠান (৮টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ৪টি ক্লিনিক) বেসরকারি ভাবে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছে। এ মধ্যে দুইটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্সই নেই। ৪টি ক্লিনিকের মধ্যে ৩টিতেই নেই আবাসিক মেডিকেল অফিসার।  একটিতেও নেই সার্টিফিকেটধারী নার্স। নেই সার্জন ও এনেস্থেসিয়া চিকিৎসক।  আয়ারাই নার্স হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন।  সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের ভাড়ায়  (অপারেশন প্রতি নির্দিষ্ট টাকা প্রদান) এনে রোগীর অপারেশন করানো হচ্ছে। অপারেশন শেষে সংশ্লিষ্ট ডাক্তার হিস্যা বুঝে নিয়ে চলে যান।  আবাসিক মেডিকেল অফিসার না থাকায় রোগীর যথাযথ চিকিৎসা হয় না। দেখা দেয় অপারেশন পরবর্তী নানান জটিলতা। অবস্থা বেগতিক হলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ কৌশলে দায় এড়ানোর পথ বেছে নেয়। সঙ্কটাপন্ন রোগীকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় পাবনা জেনারেল হাসপাতা অথবা রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে। এ ক্ষেত্রে রোগীর স্বজনদের ভুলভাল বুঝ দেওয়া হয়।  এ ধরণের রোগীর অনেকেই পথে মারা যায়। অনেকেই মৃত্যুর কাছে হার মানেন স্থানান্তরিত হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরও। তখন ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ টাকা দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেন। শুধু তাই নয়, এ সব ক্লিনিকের  চিকিৎসকেরা (ভাড়ায় আনা) কারণে-অকারণে নানা ধরণের ‘টেষ্ট’ করতে দেন রোগীসহ তার স্বজনদের। এসব টেষ্টের ‘ফি’ও চড়া। একটি প্রতিষ্ঠানের ‘টেস্ট রিপোর্ট’ র সাথে প্রতিযোগি অপর প্রতিষ্ঠানের ‘টেষ্ট রিপোর্ট’ বেশিরভাগ সময় মেলে না, এ গুঞ্জন রয়েছে উপজলাবাসীর মধ্যে।
সম্প্রতি এনেস্থেসিয়া চিকিৎসক ছাড়াই অপারেশন করার প্রস্তুতিকালে চাটমোহর ইসলামিক হাসপাতালে (বেসরকারি) হানা দেন সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারকি হাকিম ইকতেখারুল ইসলাম। কথিত সার্জন চিকিৎসক দিয়ে অপারেশন এবং এনেস্থেসিয়া চিকিৎসক না থাকার দায়ে তিনি হাসপাতালি সীলগালা করে দেন। ১লাখ ৫২ হাজার টাকা জরিমানা করেন হাসপাতালটির মালিক ও কথিত সার্জন চিকিৎসককে। এ ঘটনা ঘটে ৩ জুলাই দুপুরে। এর ৩দিন পর   ৬ জুলাই চাটমোহরের ১২টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকে হানা দেন খোদ পাবনার সিভিল সার্জন ডা. মেহেদি ইকবাল।
লাইসেন্স না থাকায় এবং সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন করায় সনি এবং সিটি ডায়াগনোস্টিক সেন্টারকে তাৎক্ষনিক বন্ধের আদেশ দেন। নানান ক্রুটি শোধরানোর জন্য ৭দিনের সময় বেঁধে দেন বাকি ১০টি প্রতিষ্ঠানকে। ক্রটিগুলো দুর করে ৭ দিনের মধ্য তার দপ্তরে পত্র পাঠানোর নির্দেশ দেন মি. ইকবাল। সময় পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- পদ্মা, পলাশ, সততা, খন্দকার, লাইফকেয়ার ডায়াগনষ্টিক সেন্টার।  চাটমোহর জেনারেল হাসপাতাল,হানুফা মেমোরিয়াল চক্ষু হাসপাতাল।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিভিল সার্জনের নির্দেশনাকে তেমনটা গায়ে লাগাচ্ছেন না এসব প্রতিষ্ঠানের মালিক। তারা আগের মতোই চিকিৎসাসেবার নামে ‘ব্যবসা’ করে যাচ্ছেন। চাটমোহর ইসলামিক হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রমও চলছে আগের মতোই। এ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।
পাবনার সিভিল সার্জন ডা. মেহদী ইকবাল বলেছেন, ৭দিনের মধ্যে তারা (ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিক) না শুধরালে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এসব প্রতিষ্ঠানের নানা অনিয়ম তিনি পত্রিকায় তুলে ধরারও অনুরোধ করেন।